শুক্রবার, ২৩ মে, ২০০৮

বিচ্ছেদের পরে

আমি বোধহয় দিনে দিনে দারুন অভিনেতা হয়ে যাচ্ছি!


কী অদ্ভুত নিয়মে বুঝে গেলে শেষমেষ তুমি,
শব্দের মোড়কে জড়াতে হলোনা বিচ্ছেদের
গতানুগতিক অভিনয়। কষ্টের অভিনয় করা
মুলতই কষ্টকর, বিশেষত যখন মুখোশ খুলে
বসি আমরা মুখোমুখি, তাবৎ কপটতা ঝরে যায়
আমাদের, ঠিক একদম দুদিন-পুরোনো পাঁপড়ির মতো।
তোমাকে নিয়েই যত ভয় ছিল আমার
নাটুকে কান্না বা অতি-আবেগ দেখিয়ে,
অপরাধবোধে পোড়াতে চাইবে আমাকে।
আশেপাশের সহানুভূতিও পাবে তুমি,
বিশেষত মেয়ে হিসেবে যা প্রাপ্য তোমার
নারীবাদীরা আমাকে শূলে চড়াবে এমনটি বলেছি জানলে।
কিন্তু তুমি বড় শান্ত থাকলে, একটু বেশিই নিরাবেগ
সহজেই মেনে নিলে যা বলেছি আমি ছাইপাশ,
পুকুরে ধবল-হাঁসের গায়ে আলগোছে লেগে থাকা পানির মত
ঝেড়ে ফেললে সম্পর্কের সুতোটুকু।
ভেবে অবাকই হয়েছি বটে আমি, মাথা নেড়েছি বারবার
নিরাসক্ত তোমার মুখের টানটান চামড়া দেখে
হোঁচট খেয়েছি, কথা ফুরুলে চুপ করে দু'জন মুখোমুখি
তাকিয়ে থেকেছি সটান চোখে।
ফিরে যেতে যেতে ভেবেছি তুমুল, ভুলগুলো আর
হাসিগুলো, খাতাজুড়ে বড্ডবেশি কাটাকুটি।
ইরেজার দিয়ে ঘসে ঘসে মুছে ফেলছি সবই দিনদিন,
থেমে ভাবছি মাঝে মাঝে, তুমিও নিশ্চয়ই এতদিনে
হেসে উঠছ সহচরদলের চটুল কথায়, গলে গলে
পড়ছ, জ্বলে জ্বলে উঠছে তারা তোমার স্পর্শে!


এতসব বেহুদা চিন্তায় নষ্ট করি ঘণ্টা-প্রহর-ক্ষণ
আজও একদম বেমক্কা রিয়েলিস্ট হতে পারল না হতচ্ছাড়া!

শুক্রবার, ৯ মে, ২০০৮

অনুভূতির অবয়বের কঙ্কাল

তারপর আমাদের অবিশ্রাম পরিণয় ঘটে চিরাচরিত জিঘাংসায়
তোমার শান্ত সুপ্তি ভেঙে, জমে তৃপ্তিহীনতার ক্লান্ত শ্বাস
রোমকূপে কোলাহল আর বিতর্ক জুড়ে দেয় সম্পর্কের চিতাবাঘেরা।


একদম বানোয়াট করি রাত্রিযাপন মোরা, দিনাতিপাতে
একঘেঁয়ে নিয়মানুগতা। পুলকে জাগে সন্দেহ,
পিপাসার্ত ফুসফুস পোড়ে ঈর্ষায়, অহেতুক!
মগজে বাসা বাধেঁ তাবৎ রাজনীতি লিঙ্গের,
শিখিয়ে দেয় চতুর্দিকের শ্বাপদ-মানব-মানবী।
প্রণয়কে বিশ্বাস নেই ভাঁওতাবাজ এই হৃদয়ের,
রিপুর পীড়ন আজ শরীরের নম্রতাকে শুধুই-
জটিল সমীকরণ সরল হয়, বাস্তবিকতায়।


তুমি আমি দূরে সরি ধীরে ধীরে দ্বীপপুঞ্জের মত
ছিঁড়ে ছিঁড়ে যায় যত টানটান আবেগের ঢেউয়েরা,
ত্বকে ত্বক মিশিয়ে শরীরে শরীর থাকে পড়ে অভ্যস্ত,
কিন্তু বিষাদ-প্রান্তর হৃদয় আজ পুড়ে খাক একাকী!
এই গ্যাজেটে একটি ত্রুটি ছিল