মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৩

দ্বিধাস্বত্তা


ধরা যাক, একটি নিকষ কালো গুহার ভেতর আটকে আছি। যেখানে বাইরের কোন আলো আসার পথ নেই। আমার সামনে একটি নিভু নিভু সলতে জ্বলছে। সলতের শেষ মাথায় একটা তেজস্ক্রিয় বিস্ফোরক লাগানো, আগুনের ছোঁয়া পেলে যা বিস্ফারিত হবে। ধরা যাক, সেই প্রায়ান্ধকার গুহায় আর কেউ নেই। শুধু সমগ্র জীবনের স্মৃতিগুলো ফটোগ্রাফের মতো সাজানো আছে। বিস্ফোরণের সাথে সাথে যে এসব ধ্বংস হয়ে যাবে, আমার মনে তখন সেটাই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। 

সলতেটা নিভিয়ে দেয়া যেতে পারে। তাতে বিস্ফোরণ ঠেকানো যাবে, স্মৃতিগুলো রক্ষা পাবে। কিন্তু অন্যদিকে আলোর অভাবে গুহামুক্তির সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যাবে। তারপর ক্ষুধা তৃষ্ণায় ধুঁকে ধুঁকে অজ্ঞাতমরণ। বাইরে কেউ জানতেও পারবে না, যে আমি আর নেই। 

ধরা যাক, সলতে নিভিয়ে দেয়ার আগ মুহূর্তে আমি একটা ফটোগ্রাফ আলতো করে তুলবো। সেখানে স্থির হয়ে আছে কিছু মানুষ, একটি অদ্ভুত অলৌকিক মুহূর্ত। কচু পাতার পানি। 

দমকা ফুঁয়ে নিভে গেলো সলতে, অন্ধ হলো দৃষ্টি, আর মুছে গেল স্মৃতি।
এই গ্যাজেটে একটি ত্রুটি ছিল