মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৩

দ্বিধাস্বত্তা


ধরা যাক, একটি নিকষ কালো গুহার ভেতর আটকে আছি। যেখানে বাইরের কোন আলো আসার পথ নেই। আমার সামনে একটি নিভু নিভু সলতে জ্বলছে। সলতের শেষ মাথায় একটা তেজস্ক্রিয় বিস্ফোরক লাগানো, আগুনের ছোঁয়া পেলে যা বিস্ফারিত হবে। ধরা যাক, সেই প্রায়ান্ধকার গুহায় আর কেউ নেই। শুধু সমগ্র জীবনের স্মৃতিগুলো ফটোগ্রাফের মতো সাজানো আছে। বিস্ফোরণের সাথে সাথে যে এসব ধ্বংস হয়ে যাবে, আমার মনে তখন সেটাই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। 

সলতেটা নিভিয়ে দেয়া যেতে পারে। তাতে বিস্ফোরণ ঠেকানো যাবে, স্মৃতিগুলো রক্ষা পাবে। কিন্তু অন্যদিকে আলোর অভাবে গুহামুক্তির সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যাবে। তারপর ক্ষুধা তৃষ্ণায় ধুঁকে ধুঁকে অজ্ঞাতমরণ। বাইরে কেউ জানতেও পারবে না, যে আমি আর নেই। 

ধরা যাক, সলতে নিভিয়ে দেয়ার আগ মুহূর্তে আমি একটা ফটোগ্রাফ আলতো করে তুলবো। সেখানে স্থির হয়ে আছে কিছু মানুষ, একটি অদ্ভুত অলৌকিক মুহূর্ত। কচু পাতার পানি। 

দমকা ফুঁয়ে নিভে গেলো সলতে, অন্ধ হলো দৃষ্টি, আর মুছে গেল স্মৃতি।

শনিবার, ১১ মে, ২০১৩

রগব্লরগব্ল

একটা সময় ছিল, যখন যা মনে আসতো, লিখে ফেলতাম। হয়তো বিকেল থেকে ভাবছি কিছু একটা নিয়ে, তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু না, খুব তুচ্ছ কোন কিছু। হয়তো রিকশাওয়ালা কিংবা সকালে উঠে রোদ দেখে মন ভাল হয়ে গেছে সে'কথা বিকেলেও ভাবছি, এমন। তারপর একটা ব্লগ খুলে লিখে ফেললাম। সেখানে শীতের সকালের শিউলি ফুলের মত টুপটাপ মন্তব্য। সেইসব ব্লগারদের সাথে মন্তব্যে মন্তব্যে আলাপ...

কিংবা হয়তো বৃষ্টিতে ভিজে চুপচুপে হয়ে অফিস থেকে বাসায় ফিরেছি। মাথা ধুয়ে গরম চা নিয়ে বসলাম, বাইরে ঝুম বৃষ্টির শব্দ আর কড়কড় বজ্রনিনাদ। ইচ্ছে হলো, ব্লগ খুলে ফেললাম - নিছকই মধ্যবিত্তের ভাবালুতা। এখন সেগুলো পড়লে লজ্জাই লাগে!
মাঝে মাঝে রাত জেগে আড্ডা হতো। দুই-তিন লাইনের পোস্ট দিতো কেউ, আর সেখানে দুইশ-তিনশ কমেন্ট! একটা কমেন্ট লিখে শেষ করে পেইজ রিফ্রেশ দিতে দিতে দেখা যেতো আরো তিনজন কমেন্ট করে ফেলেছে। একেক কমেন্ট পড়ে হাসি চাপতে চাপতে পেট ব্যথা করতো, এমন তার উইট আর হিউমার। কী দারুণ তুচ্ছ সেসব দিনরাত্রিযাপন।
আজকাল কিছু লিখি না। অনেক কিছু ভাবি, অনেক কথা জমে ওঠে। সেগুলোকে চাতালে তুলে রাখি। অন্য কোন দিন লিখবো বলে টুকে রাখি, অতঃপর বিস্মৃতি। তবু কিচ্ছু যায় আসে না। একটা সময় ছিল যখন তিন-চার লাইনের ড্রাফট ইলেকট্রিসিটি চলে যাওয়ায় হারাতে হয়েছে, ব্যাকআপ রাখি নি বলে, সেই দুঃখে রীতিমত কান্না পেতো। জীবন হয়তো অনেক সহজ ছিল। আর এখন এগুলো গায়ে লাগে না। হয়তো চারপাশের কুটিলপঙ্কা জীবনের চাপে এগুলো সব ছেড়ে দিতে হয়েছে। যে মন ক্রমশ হেরে যাবে জেনেও যুদ্ধ চালিয়ে যায়, তার কাছে না-লেখা লেখার জন্য বিষাদ বিলাসিতা ছাড়া কিছু না।
পেছনে তাকালে দেখি সহজতর জীবন কীভাবে কৌটিল্যে ভরে ওঠে। চারপাশের গাঢ় নোংরামো কীভাবে এগিয়ে আসে। যে বিষয়গুলো চিরন্তন সত্য বলে মানি, সেগুলোকে যখন কেউ মিথ্যা বলে মানে, তখন সন্দেহ হয় বোধ নিয়ে। তাকে ভুল বলার আগে নিজের ভেতরেই তাকাই, বোঝার চেষ্টা করি - আমার বিবেচনা ঠিক আছে তো? আমি কী জেনে শুনে বা নিজের অজান্তেই ভুলকে শুদ্ধ ভাবছি? হতেও তো পারে। আবার তথ্য মিলাই, ইতিহাস বেছে দেখি, সময় ও বাস্তবতাকে বুঝতে চেষ্টা করি। ভবিষ্যতে কী হবে, সেটার আন্দাজ ও আশঙ্কা মেপে মেপে হিসাব কষি।
দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এ ক্ষণিক বিচলতা। প্রকৃতি ও পৃথিবী আপন নিয়মেই ঘুরে চলবে। আমি ও তুমি একদিন এই পৃথিবীতে থাকবো না, কিন্তু তাতে এই পৃথিবীর কিছুই যাবে আসবে না। মানুষ প্রজাতিরও কিছু যাবে আসবে না। আমার নিজস্ব বোধ ও চেতনা তুচ্ছ ও অমলিন। তোমার বিশ্বাস ও ক্ষোভ তুচ্ছ ও অমলিন। সত্য ও মিথ্যায় কিছু যায় আসে না। সময়চক্রে সত্য হয়ে যায় মিথ্যা, মিথ্যা হয়ে ওঠে মিথ। সেই পরিবর্তিত সত্য ও মিথ্যার ওপর ভর করে নতুন যুদ্ধ চলে। আজকে যে দুইজন ডান ও বামে দাঁড়িয়ে হাতাহাতি করছে, কালকেই তারা পরষ্পর জায়গা বদলে সেই একই হাতাহাতি করতে থাকবে। দর্শক হিসেবে হাতাহাতিটাই দেখার বস্তু, কে ডান, কে বাম, কে সত্য, কে মিথ্যা, সেটা এই মুহূর্তে জরুরি হতে পারে, কিন্তু সামগ্রিক বিচারে একেবারেই তুচ্ছ ও অমলিন।
একচল্লিশ দিন ধরে আমার প্রিয় কিছু মানুষকে বিনা দোষে আটকে রাখা হয়েছে। এই একচল্লিশ দিনের মাঝে প্রায়ই আমার সমস্যা হয়েছে ক্রোধ প্রশমন করতে গিয়ে। খুব রেগে গেলে আমি খিস্তিখেউড় করি। গালি তো একটা এক্সপ্রেশন ছাড়া কিছু না, তাই কিছুক্ষণের জন্য ভালও লাগে। তারপর বুঝতে পারি কাজটা খুব স্বার্থপরের মতো হলো তো! ওদের নিপীড়নকারীর জন্য জমে থাকা ক্রোধ প্রশমন করছি, বহন করতে পারছি না। অথচ ওরা বিনা দোষে জেল খাটছে। হবুচন্দ্র রাজা ও গবুচন্দ্র মন্ত্রীর দেশে শূলে চড়ার লোক পাওয়া যায় না। শেষে ধরা হয় লোভী শিষ্যটিকে, যে মাখন খেয়ে বিশাল-বপু হয়েছিল। আমার দেশের মানুষজন হলো সেই লোভী শিষ্য - রূপকার্থে তারা একদিন শূলে চড়তে যাচ্ছে অচিরেই (কিংবা হয়তো এরই মধ্যে চড়ে বসেছে, পশ্চাতে ধীরে ধীরে লৌহশলাকা গেঁথে যাচ্ছে!)।
[পুনশ্চঃ গল্পের শেষে বুদ্ধিমান গুরুর কারণে শিষ্য বেঁচে যায়, নাকে খত দিয়ে রাজ্য ছেড়ে দেয়। আর শূলে চড়ে স্বর্গবাসী হয় হবুচন্দ্র স্বয়ং। এই সমাপ্তি আদৌ আমাদের বাস্তবতায় হবে বলে মনে সাহস পাই না...]

শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

শাহবাগ ভাবনা

ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে ভেবেছিলাম বইমেলায় যেতে পারবো না এটা এই মাসে সবচেয়ে বড়ো আফসোস হয়ে থাকবে। ৫ তারিখের পর থেকে সব উল্টেপাল্টে গেল! শাহবাগে সশরীরে থাকতে না পারা, এমনকি মাঝে মাঝে কাজের চাপে ভার্চুয়ালিও থাকতে না পারা আমার জন্য প্রবল আফসোস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমি পেশা হিসেবে শিক্ষকতা করবো বলে ঠিক করেছি প্রায় বছর দুয়েক আগে। দেশের একটা প্রায়-অখ্যাত, থার্ড টিয়ার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে তড়িৎ কৌশল পড়াতাম। পড়াতে পড়াতে টের পেলাম যে এই বিষয়ে আমার জ্ঞান খুবই কম। ছাত্রদের হয়তো কোচিং সেন্টারের মত বই আউড়ে দিতে পারি, কিন্তু সত্যিকার অর্থেই বিষয়টা তাকে বুঝানো লাগবে, তত্ত্বের সাথে বাস্তব দুনিয়ার সংযোগটা দেখিয়ে দিতে হবে; সে বিদ্যা আমার নেই। কেবল সূত্র মুখস্ত করে আর অঙ্ক করে তারা হয়তো ভাল গ্রেড পেতে পারে, কিন্তু চাকরিক্ষেত্রে গিয়ে সামান্য অ্যাপ্লিকেশনগুলোতেই আটকে যাবে। আরো একটা ব্যাপারে আমার প্রশিক্ষণ দরকার আছে - সেটা হলো ছাত্রদের মাঝে দায়িত্ববোধের জন্ম দেয়া এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য গড়ে তোলা। এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো সাধারণত মানুষ বাবা-মা কিংবা বড় ভাই-বোন ও আত্মীয়দের কাছ থেকে শিখে নেয়। কিন্তু বাঙলাদেশে জীবনযুদ্ধে ব্যস্ত বাবা-মায়ের পক্ষে সন্তানদের ভরণ-পোষণের পর এত সূক্ষ্ণ অথচ জরুরি বিষয়গুলো শেখানোর অবকাশ থাকে না। আর আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাও এই বিষয়গুলোতে নজর দিতে পারে না। এই শিক্ষাটি কেবল ভাগ্যবান ছাত্রদের কপালে জোটে, যারা সেই প্রজ্ঞাবান শিক্ষকদের সংস্পর্শ পায়। আমি কলেজে পড়ার সময় তেমন শিক্ষকদের পেয়েছিলাম, যারা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের জগতকে বুঝার দৃষ্টি খুলে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন আমার ভেতর।
ভালোকে খারাপ থেকে আলাদা করতে পারার বিবেচনা, ঝাঁকের কইয়ের মতো জনপ্রিয় মতের তরফে চিন্তাভাবনা ছাড়াই না দাঁড়িয়ে প্রয়োজনে বিরুদ্ধমতকে সোচ্চার করার সাহস থাকা প্রয়োজন। এগুলো একজন দায়িত্ববান মানুষ তথা সুনাগরিক গড়ে তোলে। যে ব্যক্তি নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং সেই মতকে সমুন্নত রাখতে এবং মানুষের হিতার্থে প্রয়োগ করতে যে কোন শক্তির মোকাবিলা করার সাহস রাখেন, তিনিই মহোত্তম। তবে এখানে উল্লেখ্য যে, এই সাহস কখনই মুখে বলে দেখানোর সাহস নয়। সামাজিক যোগাযোগে এমন মানুষই বেশি যারা মুখে মুখে অনেক হাতি-ঘোড়া মেরে বসেন, কিন্তু স্থির পরিকল্পনা ও একগুঁয়ের মত একাগ্রতা নিয়ে নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেন না। আমরাও এমন চটক আর জেল্লা দেখে ভুল করে তাকেই 'নায়ক' মনে করি। যদিও মূলত তিনি বাক্যসর্বস্ব মানুষ, দায়িত্ব নিতে জানেন না। উচ্চারিত প্রতিটি বাক্যের জন্য যদি দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার চর্চা নাগরিক জীবনে থাকতো, তাহলে আমরা দেখতাম এই মুখে মুখে হাতি-ঘোড়া মারা মানুষগুলো চুপ মেরে গেছেন!
আমি মনে করি একজন ছাত্রের সম্ভাবনা অসীম। অতিক্ষুদ্র শিক্ষকতাজীবনে এমন দুরন্ত ছাত্র দেখেছি, যে নিতান্ত সাধারণ পড়াশোনার মান পেয়েও তার উদ্ভাবনী ক্ষমতা দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে। আমি নিজেই তাদের শেখার ক্ষমতা ও শিক্ষাকে কাজে লাগানোর দক্ষতা দেখে আশাবাদী হয়েছি। গর্বও হয়েছে যে প্রায় কাছাকাছি বয়সের এমন কাউকে শেখানোর সুযোগ পেয়েছি, যদিও আমি তার থেকে অনেক কম জানি। আবার বেদনার্ত হয়ে দেখেছি কিছু কিছু ছাত্র নিজের অমিত সম্ভাবনাকে অনেকটা না বুঝেই অপচয় করছে। তারা বিদ্যার্জন করছে, কিন্তু তা কেবল নিজের ক্যারিয়ারের স্বার্থে। অস্বীকার করবার উপায় নেই যে অনেকের বাস্তবতা সুখের নয়, হয়তো পারিবারিক দায়বদ্ধতা তাদের ওপর চেপে বসেছে। তাদের দোষ দেখি না। তবে খারাপ লাগে যে এমন সম্ভাবনাময় একজন মানুষকে বেড়ে ওঠার, নিজের পছন্দের ক্ষেত্রে বিকশিত হবার সুযোগ সমাজ দিচ্ছে না দেখে। আমি ভেবেছিলাম যে এই কঠোর বাস্তবতা মেনে নেয়া ছাড়া আর কোন পথ নেই।
তবে এই শাহবাগ গণজাগরণ আমার সেই ধারণাকে বদলে দিচ্ছে ক্রমশ। আমি এখন মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি যে একজন মানুষ তার বাস্তবতাকে বদলে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের চাপিয়ে দেয়া নিয়মকে অবলীলায় ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার অমিত শক্তি তার ভেতর সঞ্চিত ও সুপ্ত রয়েছে। দরকার কেবল একটু স্ফূলিঙ্গের, আর একটু যূথবদ্ধতার। আদালতের রায় মেনে না নিয়ে যে গুটিকয় মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, তারা আমাদের সবার মতোই সাধারণ মানুষ। জামাত-শিবির ছাড়া ওইদিন রায়ের সংবাদে কম-বেশি সবাই আমরা ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছিলাম। চিন্তা করে দেখুন, ওই কয়েকজন এগিয়ে এসে না বসলে, দায়িত্ব নিয়ে ঘোষণা না দিলে হয়ত এই আন্দোলনের জন্মই হতো না! গুটিকয় মানুষ রাজপথে বসে পড়লেন, একদিন পরেই সেই গুটিকয় মানুষ হয়ে গেল জনসমুদ্র। এখানে উল্লেখ্য যে জনসমুদ্রের সকলেরই দায়িত্ববোধ প্রথমে জড়ো হওয়া মানুষগুলোর দায়িত্ববোধের সমান। আমরা নেতাপ্রবণ জাতি, কিন্তু এটা ভুললে চলবে না যে কোন নেতা জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে আমাদের যুদ্ধগুলো করে দেন নি। মানুষ নিজের যুদ্ধ নিজেই করেছে। তেমনি শাহবাগের প্রতিদিনের অসংখ্য মানুষের বিন্দু বিন্দু স্বতন্ত্র চেতনাই এই গণজাগরণের জ্বালানি। আমার আফসোস, এই স্ফূরিত আগুন আমি নিজ চোখে দেখতে পেলাম না, কেবল মনিটরেই দেখলাম।
এই যুদ্ধে আমাদের শত্রু সংখ্যায় দুর্বল। কিন্তু তারা সঙ্ঘবদ্ধ। আমরা সংখ্যায় বহুগুণ। কিন্তু একতাবদ্ধ নই। মাত্র সতেরো দিনের আন্দোলনে আমাদের মাঝে কিছু কিছু মতবিরোধ, চাপাক্ষোভ, মনমালিন্য তৈরি হয়েছে। মাথা গরম না করে চিন্তা করে দেখুন তো, এর পেছনে যাকে দায়ী করছেন, তার মতো আপনি নিজেও কি সমানভাবে দায়ী নন? আন্দোলনের প্রথম দিনের আপনি কি ভেবেছিলেন যে সতেরো দিন পরে এরকম কিছু হতে পারে? কিংবা চিন্তা করুন, যে তিল তিল ত্যাগের মাধ্যমে এই গণজাগরণের অনল ছড়িয়ে গেছে, সেখানে আপনার বা আমার ব্যক্তিগত চাওয়াপাওয়ার গুরুত্ব কতটুকু? নেই বললেই চলে। এর পরেও যদি মনে করেন যে আপনার রাগ বা হতাশা যৌক্তিক, তাহলে একাত্তরে ফিরে যাই, চলুন। ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট হলো। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা। তার সতেরো দিন পরের তারিখ হলো ১২ এপ্রিল। মাত্র দুইদিন হলো বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়েছে! জানেন তো, সেই সরকার গঠনের সময় নিজের স্বার্থ নিয়ে নিচুমনের কাইজ্যা কে লাগিয়েছিল? লোকটার নাম খন্দকার মোশতাক আহমেদ। ইতিহাস তাকে তার জায়গা দেখিয়ে দিয়েছে।
তাই বলি, ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে ওঠার ক্ষমতা আপনার আছে, জাতি খন্দকার মোশতাক চায় না, বরং স্থিতধী তাজউদ্দিন আহমদ চায়। শত্রু আমাদের চাইতে সঙ্ঘবদ্ধ, কারণ তাদের লক্ষ্য স্থিরকৃত। আমাদের লক্ষ্য স্থির করা হলে সেটা নিয়ে সংশয় প্রকাশ না করে একাত্ম হোন। এটা অমন হলে ভাল হতো, ওটা তেমন হলে ঠিক হতো - এরকম সমালোচনার উদ্রেক হচ্ছে কারণ যখন এটা এবং ওটা ঠিক করা হয়েছে তখন আপনি সক্রিয় ছিলেন না। দায়িত্ব নেন নি। তাই এখন আপনার দায়িত্ব হলো যারা দায়িত্ব নিয়েছে তাদেরকে সমর্থন দেয়া। এই নির্দেশনার কোনকিছু আপনার অপছন্দ হতেই পারে। সেক্ষেত্রে সক্রিয় হয়ে পরের ধাপগুলোকে বাস্তবায়নে অংশ নিন, দেখবেন তখন আপনার নির্দেশনা ও পরামর্শ গৃহীত হচ্ছে। আমাদের শত্রুরা চায় আমাদের মাঝে এই মতবিরোধ লেগে থাকুক, ক্রমেই বেড়ে উঠুক। কারণ একমাত্র এই স্ট্র্যাটেজিতেই তারা জিততে পারবে। আমাদের জনবল প্রচুর, কেবল দরকার মতামত নির্বিশেষে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে দৃষ্টিনিবদ্ধ রাখা।
জয় বাংলা!

শনিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

ইট গেটস বেটার

আমার ইদানিং সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি হয়। বেঁচে থাকার জন্য আমি কোন কারণ খুঁজে পাইনা।
ঠিক না। ইট গেটস বেটার। অলওয়েজ।
হ্যাঁ, কিন্তু লাভ কী?
লাভ হলো স্মৃতি জড়ো করা। জীবন আসলে স্মৃতি জড়ো করা ছাড়া কিছুই না। একজনের নিজের কাছে।
বেঁচে থাকাটা হুদাই পেইন না? মরে গেলেই তো শান্তি।
না। মরে গেলে শান্তি না। শান্তি জিনিসটা তো ফিল করতে হবে। মরে গেলে সেটার সুযোগ নাই।
ওহ, তাহলে বলা উচিত, "মুক্তি"।
মুক্তিও না। কারণ মুক্তির ব্যাপারটাও একটা ইমোশন।
মইরা গেলে তো খেয়াল শেষ, কিছু যায় আসে না। টের পাবো না এর পর কী হইল না হইল। আমিত্ব হারাবে।
হ্যাঁ, কিছুই টের পাবি না।
এটাই দরকার।
এটা কোন ভাল ব্যাপার না। টের না পাওয়ার অনুভূতি হলেই শুধু টের পাওয়ার অনুভূতির মর্যাদা বুঝা যায়। অনেকটা নিঃশ্বাস নেয়ার প্রসেসের মতন।
হুম
কিন্তু মরে যাওয়া আসলেই কোন সলুশন না। প্রবলেমটা তৈরি হইসে লাইফ থেকে, তাই সেটা লাইফের ভেতরেই সল্ভ করতে হবে। লাইফ সিস্টেমের বাইরে এইটার কোনো সলুশন নাই।
হুম
তুই যতোটা মৃত্যু নিয়ে ভাবছিস, আমি সম্ভবত তার কাছাকাছি পর্যায়ে ভাবসি।
কী কমু বুঝতেসি না।
হে হে। তাইলে শোন। দুয়েক বছর খুব খারাপ থাকলে মানুষ করে যে সবকিছু অর্থহীন। কিন্তু ধীরে ধীরে একদিন সব ঠিক হয়ে যায়। আমি এখনো পর্যন্ত এমন দেখি নাই যেখানে এইটা বেটার হয় নাই।
হুম
যদি কেউ সচেতন হয় যে যা হচ্ছে তা খারাপ হচ্ছে, তাহলেই সেটা বেটার দিকে যায়। অনেকে এই সচেতনতাটাই জাগায় তুলতে পারে না। নিজেরেই নিজে ডুবানো। ড্রাগস নিলে এমন হয়। সুইসাইডের মতন এস্কেপ রুট খোঁজা। ওটা করার মত সাহস নাই তাই সাময়িক পলায়ন = ড্রাগস।
হুম
কিন্তু সেইটাও কোন সলুশন না। কারণ তারা মূল ইস্যুটা ফেইস করতেসে না। ইস্যুটা হইল যে ইট গেটস বেটার। অনেকটা ওই গুহাবাসীর মতন, প্লেটো যার কথা বলসিলো।
কে?
সারাজীবন যে একটা গুহার মধ্যে একটা দেয়াল দেখে বড় হইসে, সে জানে না কয়েক পা বাইরে দিলেই অন্য জগত। তারে টেনে হিঁচড়ে কেউ বের করে আনলে তার চোখ ধাঁধায় যায়। সে বাইরের জগতকে তখন বিশ্বাস করতে চায় না। একমাত্র সেই নিজে চাইলেই কেবল সে বের হয়ে আসতে পারবে। এই চাওয়াটা আসে যখন সে নিজেকে নিজে বুঝায় যে ইট ক্যান গেট বেটার। হোয়াটেভার আই অ্যাম ফিলিং, ইয টেম্পোরারি গ্রিফ।
হুম
মানুষ নিজের শিশু সন্তান মারা গেলেও তো বেঁচে থাকে। বাবা মা'ও মারা যায় সবার, তারপরেও তো তাদের সন্তানেরা বেঁচে থাকে। আমার পরিচিত এক আপু আছেন, তার সাত মাসের বাচ্চা মারা গিয়েছিল। উনি কখনো উল্লেখ করেন না যে সে নাই। রিসেন্টলি ওনার বাচ্চা হইসে আরেকটা। উনি ছবি দিয়ে নিচে লিখসেন, "***-এর ছোট বোন"। তার মানে উনি অস্বীকারও করছেন না। খালি মেনে নিয়েছেন যে তার প্রথম বাচ্চাটা তার সাথে নাই। কিন্তু সে তার স্মৃতিতে সবসময় আছে।
- :-(
এজন্যই শুরুতে বললাম যে সবই স্মৃতি জড়ো করা।
বুঝলাম। অনেক কথা।
আমি সিরিয়াসলি বলসি কিন্তু।
হ্যাঁ বুঝসি তো সেটা।
গুড।

মঙ্গলবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৩

বৃষ্টিসন্ন

সারাদিন বৃষ্টি, কখনো তুমুল, কখনো ঢিমেতেতালে। পাশুঁটে আকাশ ছড়িয়ে রইলো রুটির ওপরে জমা ছত্রাকের মতো। দিনের বয়স বোঝা গেলো না। রেফ্রিজেটরের ভেতর আরেকটু কুঁকড়ে গেলো শেষ টমেটোর ত্বক। খোঁজ নিলে জানা যাবে মেইলম্যান আজ কাউকে পায় নি ঠিকানায়, দরজায় সেঁটে এসেছে আবার আসার প্রতিশ্রুতি। জেঁকে বসা দীর্ঘ শীতে জমে থাকা ছিন্ন পাতা ও প্রশ্ন ধুয়ে গেলো স্রোতমুখে। জুতোমোজা ভিজে সপসপে, রোডসাইন ঘোলা হলো বাষ্পে। ছাতি চেপে মুষলবৃষ্টিতে চড়াই উতরে দেখি সকালের ক্লাস বাতিল হয়ে গেছে। টুকরো সংলাপ আর এলোমেলো কাদামাখা পায়ের ছাপ এদিক-সেদিক চলে গেছে। কান্নাস্রোতের ঢল নেমেছে পাহাড়ের ঢালে, ফিরতি পথে সেই কান্নার ফোয়ারা ছিটিয়ে গেলো কোনো আন্ডারগ্র্যাডের বিকটদর্শন ট্রাক।
স্মিত হাসি। গোড়ালিতে জমে থাকা বিষণ্ণ ক্রোধটুকু ধুয়ে গেলো।

সোমবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৩

রাজাকারের ফাঁসি ও প্রাসঙ্গিক চিন্তা

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকার ওরফে আবুল কালাম আজাদকে বাংলাদেশের সংবিধানের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একাত্তরে ফরিদপুর এলাকায় খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ সহ অসংখ্য কুকীর্তির জন্য দায়ী এই বাচ্চু রাজাকার। পাকিস্তানি আর্মির সাথে মিলে যুদ্ধের সময় নিরীহ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে এই কুখ্যাত অপরাধী। তার শাস্তির রায় শুনে মনে যে অভূতপূর্ব আনন্দ হলো তা প্রকাশের ভাষা আমার নেই। এক ঘুম দিয়ে উঠলাম, এখন মনে হচ্ছে ঠাণ্ডা মাথায় আরো কিছু ব্যাপার চিন্তা করার সময় এসেছে।
১। বাচ্চু রাজাকার পলাতক। রাজাকারদের দোসর-রাষ্ট্র পাকিস্তানে। তাকে ধরা হবে এই খবর পেয়ে সে পালিয়েছে। এখন তাকে ধরে আনা হউক। পাশাপাশি এটাও চিহ্নিত করা হউক যে কে বা কারা তাকে পালাতে সাহায্য করেছিল। রাজাকার ও রাজাকার-সমর্থক কারো ঠাঁই এই দেশে থাকা উচিত না।
২। এই রায়ের বিপরীতে আপিল করবে আসামিপক্ষ। সেই আপিলের সময় ৩০ দিন। তারপরে সেইটাকে আবার খণ্ডন করা হবে। আমার চাওয়া এই আপিল সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক। কোন জামাত-শিবির বা তাদের ভাবসমর্থক যেন বলতে না পারে যে তারা সুযোগ পায় নাই।
৩। এই রায়ে ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য দলীয়ভাবে জামাতকে দায়ী ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল। সুতরাং জামাতের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে মামলা করে বিচার করার সময় এসেছে। উল্লেখ্য ন্যুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালেও বেশ কয়েকটি দলের বিচার হয়েছিল। (তথ্যটি পেলাম একরামুল হক শামীমের কাছ থেকে। তাকে ধন্যবাদ।)
৪। বাচ্চু রাজাকার টিভিতে ধর্মীয় উপদেশের অনুষ্ঠান করতো। তাকে এই সুযোগ করে দিয়েছিল এটিএন বাংলার মালিক মাহফুজুর রহমান, এবং পরে এনটিভির মালিক মোসাদ্দেক আলী ফালু। মাহফুজের দুর্নীতি ও পীড়ন নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। ফালুও কী চিজ, কত টাকা দুর্নীতি করেছে, সবাই জানে। এখন সময় এসেছে শক্ত হাতে এদের বিরুদ্ধে আইনী প্রচারণা শুরু করার। রাজাকারের পৃষ্ঠপোষকদের একে একে ধরা উচিত।
৫। জামাতের বর্তমান অবস্থা হলো তারা বিএনপির সাথে মিশে রাজনীতিতে টিকে থাকতে চেষ্টা করছে। অতীতে আওয়ামী লীগের সাথে মিশেছিল। এই অ্যামিবাসদৃশ বর্ণচোরার দল ভবিষ্যতেও আওয়ামী লীগের সাথে মিশতে পারে। রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নাই। এখনই সময় এদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার। যুদ্ধাপরাধী বিচারের পাশাপাশি জামাতের ধর্মভিত্তিক বদমায়েশি থামানো দরকার। এটা সহজেই অনুমেয় যে তারা ধর্মানুভূতির দোহাই তুলে পাব্লিক সিমপ্যাথি পেতে চাইবে। কিন্তু এই খুনী ও ভ্রষ্ট দলটির ব্যাপারে এখন সতর্ক না হলে পরে সমূহ বিপদ হতে পারে। এমনিতেই এরা রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে।
৬। জামাতের পাশাপাশি কিছু বুদ্ধিবেচা বুদ্ধিজীবীদেরকেও ধরার সময় এসেছে। একজন হলো আসিফ নজরুল, ওরফে নজরুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক, যে মতিউর রহমান নিজামী যুদ্ধাপরাধী নন এমন বক্তব্য দিয়েছিল। এছাড়াও নানা সময়ে ট্রাইব্যুনাল নিয়ে তার মহা আপত্তি। এটা ঠিক না, ওটা ঠিক না, এহেন নাকিকান্না সে প্রায়ই টক-শোগুলোতে কেঁদে বেড়ায়। আদালত নিয়ে এমন অপমানজনক কথা বলায় তাকেও বিচারের সম্মুখীন করা উচিত।
৭। আরেকজন অপরাধী আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। ট্রাইব্যুনালের বিচারকের প্রাইভেসি লঙ্ঘনের দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়া উচিত। বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে সেও।
৮। সবশেষের পয়েন্টটা সংরক্ষিত তাদের জন্য, সেইসব ভবিষ্যত-দেখে-ফেলা জাতির কর্ণধারদের জন্য, সেইসব হাস্যকর জ্ঞানীর জন্য, সেইসব ডাইকোটামি-কপচানো রিকনসিলিয়েশন-থিওরির প্রবক্তাদের জন্য, সেইসব 'আসল যুদ্ধাপরাধী' খোঁজা গরুচোরগুলোর জন্য, সেইসব কাব্যচর্চা-উপন্যাসচর্চা-সাংবাদিকতাচর্চা করা পাকিস্তানপন্থীদের জন্য। তাদের দেখে আজ হাসছি। অনলাইনে তাদের তুবড়ি ছোটানো পূরীষগুচ্ছ আজ থেকে এতিম হলো। এইসব কুবুদ্ধিপনার জঞ্জাল একদিন শেষ হবে, ধুয়ে মুছে সাফ হবে। আমি সেইদিন এদেরকে নিয়ে আর মাথা ঘামাবো না।

শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৩

স্বীকারোক্তিনামা

এই আত্মবঞ্চনা আর অবিশ্বাসের কালে
আশা করি না কারো কাছে কিছু
চাই না ক্ষমা কিংবা নিগ্রহ কোনোটাই,
ক্ষমার্হ কোন লঘুপাপ করি নি, হই নি দুর্বল -
নিগ্রহের কারণ হবার মতো
শংসাবচনে একঘেঁয়েমি জন্মেছে বহু কাল
ঘুরে ফিরে প্রশস্তির ভাষা, আটপৌরে ও মেকি; চাই নি।
দায় নেই কারো কাছেই, না সমাজ, না ব্যক্তি,
প্রভু মানি না কাউকে, দাস পালন করি না কখনো;
সেমিকোলনের মত অর্ধযতি হয়ে আছি।
সমাপ্তি ঘোষণার মত বড় কিছু হতে চাই না

রবিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১২

পাইয়ের জীবন - রূপকজাদু!


আজকে দেখে এলাম লাইফ অফ পাই। ইয়ান মার্টেলের বিখ্যাত বইয়ের চলচ্চিত্ররূপ। অ্যাং লিয়ের কাজ আমার খুব পছন্দের, তার বেশ কয়েকটি ছবি দেখা হয়েছে - যেমন "সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি", "ব্রোকব্যাক মাউন্টেইন", "ক্রাউচিং টাইগার হিডেন ড্র্যাগন" ইত্যাদি। ছবিগুলো দেখে তার ব্যাপারে আমার একটা প্রত্যাশার মাত্রা তৈরি হয়েছিল। সব পরিচালককে নিয়েই হয়। আমার কাছে সিনেমার এক এবং একমাত্র শিল্পী হলেন পরিচালক। অভিনেতা, ক্যামেরাম্যান, স্ক্রিপ্টরাইটার - এরা হলেন কেবল সেই শিল্পীর আঁকার ভিন্ন ভিন্ন তুলি, এর বেশি কিছু না। অ্যাং লিয়ের ব্যাপারেও একটা নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছিল আমার, কিন্তু আজকে সেই ধারণা ভেঙে গেল। অ্যাং লি তার পূর্বের সব সীমানা ও সীমাবদ্ধতাকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলেছেন। তার এই ছবিটা সম্ভবত তার কর্মজীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হতে যাচ্ছে। টেরেন্স ম্যালিকের যেমন "ট্রি অফ লাইফ", অ্যাং লিয়ের তেমন "লাইফ অফ পাই"...
ছবির কেন্দ্রবিন্দুতে হলো Piscine Patel বা সংক্ষেপে Pi, অভিনয় করেছেন ইরফান খান। চরিত্রটির নাম নিয়ে অংশটুকু বারবার ইরফানের আরেক ছবি "দ্যা নেইমসেক"-এর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল। সেখানে গোগোলের নিজের নাম নিয়ে যে টানাপোড়েন, হীনম্মন্যতা - তার কাছাকাছি হীনম্মন্যতাও পাইয়ের জীবনে ছিল। ছোটবেলা থেকে পাইয়ের মাঝে যে গভীর আত্মজিজ্ঞাসা, ধর্ম ও জীবনকে বোঝার নিষ্কলুষ চেষ্টা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। ছোট ছোট জিজ্ঞাসা তার মাঝে - আমরা কে - স্রষ্টা কে - স্রষ্টা কেমন - ধর্ম কী, এগুলো তো আমাদেরও মনে কখনো না কখনো আসে। সেই ছোট্ট কিশোর পাই-এর আকুতি তাই বড়ো চেনা মনে হয়। পাইয়ের মায়ের চরিত্র করেছেন টাবু, এবং বরাবরের মতই অনবদ্য তার অভিনয়। মুম্বাইয়ের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আসলে বুঝলো না টাবু কত বড়ো অভিনেতা, বিদেশি পরিচালক আর মিডিয়া বুঝলো। বলিউডে তাকে সারাজীবন অফট্র্যাক আর বাণিজ্য-অসফল কিছু মুভি করতে হলো। (ব্যাপক আফসোসের ইমো)
তবে এদের দুইজনকেও ছাপিয়ে গেছে সুরজ শর্মা। অভিনয়ে অভিষেক হলো তার এই ছবির মাধ্যমে - এবং এক মুহূর্তের জন্যেও মনে হয় নি কোন অভিনয় দেখছি। তার উৎকণ্ঠা, তার মরণের ভয়, তার বেঁচে থাকার প্রবল চেষ্টা- এই সবকিছুর মধ্যে কতটা বাস্তব আর কতটা অভিনয় ফারাক করা মুশকিল।
ছবিটার গল্প তেমন কিছু বলবো না। আপাতদৃষ্টিতে বেশ সাধারণ গল্প (উপরের লিংকে দেখলেই বুঝবেন)। কিন্তু যেটা নিয়ে বলো সেটা হলো ছবিতে রূপকের অভিনবত্ব নিয়ে। ছবিটি দেখার সময় অবশ্যই হাতে দু'ঘণ্টা সময় নিয়ে বসবেন। যারা দেশে দেখবেন, ভালো প্রিন্টের জন্য অপেক্ষা করুন। এই ছবি বাজে প্রিন্টে দেখলে রীতিমত হতাশ ও ক্ষুব্ধ হবেন। মেজাজ খারাপও হতে পারে। কিন্তু ভাল প্রিন্ট দেখে অনুভূতি হবে ঠিক উল্টোটা! সিনেমাটোগ্রাফি আর ফটোগ্রাফি দেখে হতবাক হয়ে গেছি। আমি ঠিক জানি না এর চেয়ে নয়নাভিরাম ছবি আর দেখেছি কী না। পুনরুক্তি হলেও বলি - ট্রি অফ লাইফ-এ মহাজাগতিক সৃষ্টির যে অসহ্য সুন্দর চিত্রায়ন দেখেছিলাম, তার থেকে সুন্দর লেগেছে লাইফ অফ পাই-এর সমুদ্র-সকাল-ঝড়-বিদ্যুচ্চমক! এমন সৌন্দর্য হতবাক করে দেয়, ইন্দ্রিয় দখল করে নেয়। কিন্তু ছবিটায় কি এগুলোই সব? এত ঠাট-ঠমকের বাইরেও চোখে পড়লো জীবন দর্শন নিয়ে টুকরো টুকরো কথা। রূপকগুলো আমি নিজেও সব ধরতে পারি নি, এতোটাই মুগ্ধ হয়েছিলাম যে অপারগতা স্বাভাবিক। এজন্য ছবিটা আরো কয়েকবার দেখবো। বইটাও পড়বার ব্যাকুল আগ্রহ হচ্ছে। যে জীবন দোয়েলের, ফড়িংয়ের - তাকে একবার ছুঁয়ে দেখবার সাধ হচ্ছে।
ছবিটা শেষ করার পর অনেকক্ষণ আমার মাথায় কিছু ঢুকছিল না। কী দেখলাম, কেন দেখলাম। এই দু'চোখে যা দেখি, তার সবই কি সত্যি? তার বাইরে কি আর কোন সত্যি নাই? এমন কি হতে পারে না যে একই জীবনের একাধিক রূপ পাশাপাশি সমান্তরালে চলছে! হতে পারে না যে কোন রূপই আসলে সত্যি না, কিংবা সবগুলোই সত্যি। বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে পাইয়ের বাবার একটা উক্তিঃ You can believe whatever you want, but believing everything does not mean anything. It only means you don't believe in anything. (স্মৃতি থেকে লিখছি, মূল উদ্ধৃতিটা পেলাম না)
এ'বছর বেশ কিছু ভাল ছবি বের হয়েছে। আমার প্রিয় কিছু ছবিও আছে। তবে এ কথা জোর দিয়ে বলতে পারি যে লাইফ অফ পাই এই বছরের সেরা ছবি। শুধু তাই না, এটি সম্ভবত এই দশকের সেরা ছবির লিস্টে প্রথম পাঁচে থাকার দাবি করে।
এর বেশি বললে আসলে ছবিটা দেখার মজা নষ্ট করা হবে। তাই এটুকুই থাক...
আর সব কথা বলা হয়ে গেলে নীরবতার কণ্ঠস্বর শুনবেন কীভাবে?

বৃহস্পতিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১২

আমরা যেমন-

প্রথমেই বলি এটিও আগেরটির মতো একটি ফাঁকিবাজি পোস্ট। অর্থাৎ কাজে ফাঁকি দিয়ে লেখা পোস্ট।
পোস্টের শিরোনাম লিখতে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ভাবলাম। পাঁচমেশালি পোস্ট বলে শিরোনাম ঠিক করা একটু কঠিন মনে হচ্ছিল। শেষমেশ 'আমরা যেমন-' ঠিক করলাম। তার কারণ গত চার মাসে কিছু নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা ঘুরে ফিরে আমাকে নিজের এবং আমার চারপাশের মানুষদের আচরণের ব্যাপারে পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করছে। একে একে বলি:
- প্রথম অভিজ্ঞতাটা হয়েছে সময় নিয়ে। এখানে আসার পর এপার্টমেন্ট ভাড়া করতে হবে। একদিন বাড়িওয়ালার সাথে দুই-তিনটা এপার্টমেন্ট দেখে একটা ঠিক করলাম। পরের দিন বিকেল চারটায় লিজ সাইন করার মিটিং। যে এপার্টমেন্ট ঠিক করেছি, সেখানেই। জেট ল্যাগের কারণে পরের দিন বিকেলে চরম ঘুম দিলাম, তবে ঘড়ির এলার্মের কল্যাণে কোনোমতে তৈরি হয়ে হাজির হলাম দশ মিনিট পরে। বাংলাদেশের হিসাবে এটা কোন ব্যাপারই না। কিন্তু এখানে দেখি বাড়িওয়ালা সেই রকম খাপ্পা হয়ে গেছে! লিজ নিয়ে কটমট করে রিশিডিউল করে চলে গেল (কারণ তার আরেক জায়গায় আরেকটা অ্যাপয়ন্টমেন্ট আছে)। সেদিন লিজ সাইন করা হলো না। করলাম পরের দিন। যা বুঝলাম, এখানে সময়ের হিসাবটা একেবারে GMT-6 হিসেবে। সবার ঘড়ি এক জায়গায়, দুয়েক মিনিটও কেউ এদিক-ওদিক করতে চায় না।

কথায় বলে বুদ্ধিমানরা দেখে শেখে, আর বোকারা ঠেকে শেখে। আমি যেহেতু বোকামানুষ, তাই ঠেকেই শিখলাম। এই জিনিসটা আমাদের দেশে মিসিং।
- আমার শিক্ষক এবং সহকর্মীভাগ্য বরাবরই ভাল। দেশেও দারুণ কিছু মানুষের সাথে কাজ করতাম, যদিও শেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (অর্থাৎ বুয়েটের) শিক্ষকদের বেশিরভাগকেই আমার পছন্দ হতো না। এখানে এসে আমার এডভাইজার (অর্থাৎ বস) আর তার পোস্ট-ডক (অর্থাৎ সেমি-বস) দুইজনের সাথে পরিচয় হলো। সামনা-সামনি এই প্রথম কথা হচ্ছে, তাই যা বলার তারাই বেশি বললেন। এখানে কাগজে কলমে ছাত্রদের কাজ করার কথা সপ্তাহে বিশ ঘণ্টা। কিন্তু কাগজের হিসাব কি আর বাস্তবে মেলে? এই লেভেলে ছাত্র বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট মানেই সারা সপ্তাহ ল্যাবেই পড়ে থাকতে হবে। ক্লাস থাকলে আলাদা কথা, কিন্তু ক্লাস নাই অথচ তুমি ল্যাবে নাই - এরকম দেখলে খবরাছে! এটা মোটামুটি ভালই বুঝিয়ে দিলেন তারা। অভিযোগেরও কিছু দেখি না, কারণ প্রফেসর নিজেই সপ্তাহে ষাট ঘণ্টা কাজ করেন। (আজকে তার অ্যাসিস্ট্যান্টের কাছে গেছি মিটিং শিডিউল করতে, কিছু কাগজ সাইন করাতে হবে। কোনোমতে দশ দিন পরে তিরিশ মিনিট সময় পাওয়া গেল!) সুতরাং আমি কোন তুচ্ছপ্রাণ, কাজ না করে কই যামু? যা বুঝলাম, এখানে গাধার খাটুনি দিতে হবে, তবে গাধার মগজ ব্যবহার না করে মানুষের মগজ ব্যবহার করতে হবে। শুধু গাধার মত খেটে গেলে মাইনক্যা চিপায় পড়া সময়ের ব্যাপার।

আরেকটা ভুল ধারণা আছে দেশের মানুষের মনে, যে পশ্চিমের মানুষ সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ করে আর দুইদিন খুব আরাম করে। Not necessarily, sire! এখানে কাজটাই বড়ো কথা। কাজ শেষ না হলে কিসের উইকেন্ড? উইকেন্ডের মজা গজা বানিয়ে খাইয়ে দেবে। বড় কম্পানিগুলো যেমন 'প্রফিট'-ভিত্তিক, এখানে এমন বড়সড় রিসার্চের জায়গাগুলো হলো ডেডলাইন-ভিত্তিক। সামনে ডেডলাইন? নাওয়া-খাওয়া কয়েক সপ্তাহের জন্য ভুলে যেতে পারেন!
- সহকর্মী ছেলেটাকে নিয়ে বলি। খুবই ভাল একটা পোলা। দেখতে অনেকটা দ্যা বিগ ব্যাং থিওরির শেলডনের মত, শুকনা-পাতলা। আমার চেয়ে বয়সে একটু ছোট, কিন্তু পড়াশোনার বহর দেখে আমি রীতিমত টাশকি খেয়েছি। বিজ্ঞানের হেন বিষয় নেই যে বিষয়ে তার আগ্রহ নেই। থোরিয়াম-রিয়্যাকটর থেকে শুরু করে প্লাজমিওন, জিন-বেইজড চিপ থেকে শুরু করে প্রোগ্রামিং সব দিকে সমান আগ্রহ। প্রচুর পড়ে, সারাদিন ল্যাবে থাকে, প্রায় আশিভাগ সময়ই সে কাজ করছে। সবচেয়ে ভাল যে দিকটা তার, সেটা হলো খুবই বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তাভাবনা। দেশে এমন কিছু ছেলেপুলের সাথে আমি যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করতাম, যারা তাদের চারপাশটাকে নাম-কা-ওয়াস্তে না নিয়ে ক্রমাগত নিরিখ করে দেখতে চায়। এই লাইনের চিন্তাভাবনা খুব উপকারী। তুমি যেমন মানুষই হও না কেন, তোমার মধ্যে এই গুণ চর্চা করে তৈরি করতে হবে। এই গুণ থাকলে প্রশ্ন করার অভ্যাস হবে। প্রশ্ন করার অভ্যাস হলে যাবতীয় ভুল ধারণা ও ভুল প্রথার অন্তঃসারশূন্যতা ধরা পড়বে। আর তখনই কেবল সেগুলো থেকে উত্তরণের রাস্তা বের হতে পারে। এই গুণ থাকলে প্রেজুডিস সহজে তৈরি হতে পারে না। এই ছেলেটার মধ্যেও প্রেজুডিস একেবারেই নেই! বাংলাদেশ নিয়ে তার প্রবল আগ্রহ। আমাকে প্রায়ই প্রচুর বকবক করতে হয় বাংলাদেশ নিয়ে, আমার ভালই লাগে। এই ধরনের মানুষ আমাদের দেশে খুব কম। সবাই যার যার গণ্ডিতে নিজের ধ্যান-ধারণা নিয়েই বসে থাকি। আর আমরা এমন একটা বয়সে পৌঁছে গেছি যে আর বদলানো সম্ভবও না। তবে নতুন প্রজন্মের পক্ষে সম্ভব চর্চা করে এই গুণগুলো আয়ত্তে আনা। (প্রচুর বাকোয়াজ লেকচার কপচে ফেললাম। ক্ষমার্হ...)
- ছোটবেলায় একটা বিরক্তিকর প্রশ্ন ছিল - 'কাকে বেশি ভালোবাসো - আম্মু না আব্বু?'। এখানে আসার পর থেকে এরকম একটা বিরক্তিকর প্রশ্ন আবিষ্কার করেছি - 'পড়াশোনা শেষ করে প্ল্যান কী? দেশে যাবে না এখানেই থাকবে?'। প্রথম দিকে জবাব দিতাম, "চলে যাবো"। কেন যাবো তার কারণ বর্ণনা করার আগেই প্রশ্নকর্তা(রা) বলেন, "এখন এই কথা বলছো, কিন্তু কয়েক বছর গেলে আর বলবে না। ফিরে যাবার সময় হলে দেখবে আর যেতে ইচ্ছে করছে না"। তারা হয়তো অভিজ্ঞতা থেকেই এমন বলে, তাই আমি তর্ক করি না। মেনে নেই। তবে গোপন কথা হচ্ছে, তাদের সবার এই জবাবগুলো শুনে শুনে আমার জিদ চেপে যাচ্ছে। বেশ ছেলেমানুষি-ভরা একরোখা জিদ। কে জানে, হয়তো তাদের ভুল প্রমাণ করতেই তল্পি-তল্পা গুটিয়ে দেশে ফিরে যাবো! 

বুধবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১২

ভিন্‌

হেনরি নামের যে বুড়ো লোকটা আমাদের শাটলের ড্রাইভার, তাকে আমার বেশ লাগে। মিশুক গল্পবাজ। একদিন সকালের প্রথম ট্রিপে উঠেছি, ঘুম ঘুম লাগছে আর ভাবছি ল্যাবে ঢুকেই কফি খেতে হবে। হেনরি কী মনে করে কৌতুক বলা শুরু করলো।
দুই ভাই, জন আর স্টিভ। দুইজনেই মহা চামার। প্রচুর পয়সা বানিয়েছে মানুষ ঠকিয়ে। একই শহরে বাস করে তারা, এবং তাদের খারাপ স্বভাবের কারণে শহরের কেউই তাদের দুই চোখে দেখতে পারে না। একদিন স্টিভ মারা গেল। সৎকার অনুষ্ঠানের আগে আগে জন পাদ্রিকে বললো, "দেখেন, আমি জানি আমার ভাইয়ের ওপর আপনি আর শহরের বাকিরা ক্ষেপে আছেন। কিন্তু আমি চাই তার এই অনুষ্ঠানটা ভালোমত হোক। আপনি যদি আপনার বক্তব্যের মাঝে (যাকে ইংরেজিতে বলে ইউলজি) ওর প্রশংসা করেন, তাহলে আপনাকে এক লাখ ডলার দেব।" পাদ্রি পড়লেন মহা ফ্যাসাদে। একদিকে এতোগুলো টাকার লোভ, আরেকদিকে চার্চের ভেতরে দাঁড়িয়ে মিথ্যা বলতেও মন সায় দিচ্ছে না, তাও আবার পুরো শহরবাসীর সামনে!
যাই হোক, পরদিন অনুষ্ঠানের সময় ইউলজি পাঠ করতে উঠলেন পাদ্রি সাহেব। বলতে শুরু করলেন, "এই স্টিভের মত খারাপ মানুষ হয় না। সে এই শহরের প্রায় সবাইকেই ঠকিয়েছে, মিথ্যা বলতো হরদম, মানুষের সম্পত্তি জবরদখল করেছে। তার পাপকর্মের ইয়ত্তা নাই!...
...
...
...
... কিন্তু তার ভাই জনের অপকর্মের তুলনায় স্টিভ একেবারে ফেরেশতা!"
হেনরি লোকটা সাদাসিধা, হাসিখুশি মানুষ। প্রতিদিন ল্যাবের কাজ শেষে বাসায় ফেরার সময় দশ-পনের মিনিট তার সাথে কথা বলি, সময়টা উপভোগ করি। দেশের কথা তখন আর মনে পড়ে না। বাসায় ফিরে ফেসবুক খুলে দেখি মানুষের ইনিয়ে-বিনিয়ে কান্না। কখনো ফিলিস্তিন আর কখনো আশুলিয়া। হাসি পায় এমন ছেলেমানুষি দেখে। এগুলো করে কী হবে? কিস্যু না। কান্নাকাটি, চিল্লাচিল্লির কোন দাম নাই। সবই ফাঁপা শব্দমালা।