আর আঙুল বাঁকা করে ঘি তোলা শিখি নাই বলে জটিল শব্দের গভীর অর্থকে টেনে পিটিয়ে সোজা করে অভ্যেস তাই স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি যেখানে নির্জলা আপ-ডাউন-আপ-ডাউন আল্ট্রাভায়োলেন্সের চাইতে দর্শন বা বিজ্ঞান নিয়ে দীর্ঘ দুই ঘণ্টার আলাপ আড্ডা পরিতৃপ্তি দেয়ার কথা বলে তা এই বেলা বঙ্গজনপদে এসে হইয়া যায় চটুল ইনফোজাহিরের বাহানা কিংবা খোঁচাখুঁচির বিষয়
বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই, ২০১৯
সিফিলিজ্ড ইয়ার্বল্স্
আর আঙুল বাঁকা করে ঘি তোলা শিখি নাই বলে জটিল শব্দের গভীর অর্থকে টেনে পিটিয়ে সোজা করে অভ্যেস তাই স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি যেখানে নির্জলা আপ-ডাউন-আপ-ডাউন আল্ট্রাভায়োলেন্সের চাইতে দর্শন বা বিজ্ঞান নিয়ে দীর্ঘ দুই ঘণ্টার আলাপ আড্ডা পরিতৃপ্তি দেয়ার কথা বলে তা এই বেলা বঙ্গজনপদে এসে হইয়া যায় চটুল ইনফোজাহিরের বাহানা কিংবা খোঁচাখুঁচির বিষয়
রবিবার, ২৩ জুন, ২০১৯
নোনা দিন
শনিবার, ১১ মে, ২০১৯
শেয়ার
বাইরে এনো না কিছুই। এনেছো, কি মরেছো। কেউ বলবে আদিখ্যেতা, কেউ বলবে 'আহা খ্যাতা, আমি আছি তোর চেয়ে কষ্টে’, কেউ এসে হাহা দিবে, কেউ এসে ঝামা দিবে স্পষ্টে।
এর চেয়ে চেপে রাখো মনের দেয়ালে মাখো গাঢ় রঙ শোকের ও বিষাদের। সেসবের মূল্য কেবল তোমার কাছেই অমূল্য বিনিময় প্রথা আর চালু নেই।
বুধবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৯
চব্বিশে অক্টোবর
শনিবার, ১১ আগস্ট, ২০১৮
গুজব
বেখেয়াল বাসের রুট থেকে হুট করে নেমে
ঝিম ধরা রোদের দুপুর শুনশান ভিড়
কাছেই অজ্ঞান শিশু কোলে ভিখারি
হাত বাড়িয়ে আমার সব নিয়ে নিতে চায়
শান্ত কুকুরের মতো লেজ নাড়াই, আশা
একদিন ঘুম ভেঙে যাবে, দেখবো দিকে দিকে
জেগে উঠছে কান্নাভেজা রক্তলাল সৌধ
শনিবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৭
প্রসাধন
মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০১৬
নট সেইফ ফর ওয়ার্ক | N.S.F.W.
প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ! দোহাই লাগে ওদেরকে ভালোবাসার ঠাপ দিন। ভালোবাসার ঠাপের অভাবে ওরা ধুঁকছে পুরনো দশটনী ট্রাকের এঞ্জিনের মতন। প্রতিটি ভালোবাসার ঠাপ দশ টাকা। কীভাবে ভালোবাসার ঠাপ দিতে হয় সেই ম্যানুয়াল পড়ে নিন অনলাইন সেলিব্রেটিদের লেখায়। তারা বিস্তারিত লিখেছেন কীভাবে ভালোবাসার ঠাপই আইসিসের জঙ্গিদের একমাত্র চাওয়া। এই ঠাপ খেলে তারা বন্দুক হাতে হাসিমুখে ছবি তুলবে না। এই ঠাপ পেলে তারা আর বেকারিতে ঢুকে আস্তে আস্তে জবাই করবে না সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে। চলুন আমরা খুঁজে বের করি আরও অনেক ঠাপাভাবে দুস্থ জঙ্গিকে। যারা এখনো আশা করে আছে কেউ এসে তাদেরকে ঠাপাবে। তবে দ্রুত ঠাপ না পেলে ভালোবাসা না খেলে তারা এদের মতই বন্দুক হাতে ছবি তুলবে। অচিরেই ঢুকে পড়বে অন্য কোন খাবারের দোকানে কিংবা সুপার-মলে কিংবা আবাসিক বারান্দায় কিংবা সংসদে কিংবা পাবলিক বাসে কিংবা এয়ার-কন্ডিশন্ড অফিসঘরে। গলা কেটে দিবে নারীদের কিংবা কিশোরদের কিংবা বৃদ্ধদের কিংবা স্লিভলেস পরিহিতাদের কিংবা শ্বেতাঙ্গদের কিংবা ছাত্রদের কিংবা বন্ধুদের কিংবা মানুষের! আরিফ কিংবা ফারুকী কিংবা আনিসুল কিংবা তাদের লেখায় লাইক চাপা তিন লাখ ভালোবাসার ঠাপ দিতে উৎসাহী বাংলাদেশি তাদেরকে ঠাপায় নি কোনোদিন।
তাই আসুন এই ভালোবাসা দিবসে আমরা ইভেন্ট খুলি। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মিলমিশিয়ে দেই ঠাপাভাবে ভুগতে থাকা এইসব দুস্থ জঙ্গি আর ঠাপাতে আগ্রহীদের। দাতা-গ্রহীতার এই অবোধ্য পাশবিক মিলন ঘটুক আর আমরা বেঁচে যাই বরং!
বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৬
দেশ
রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০১৫
মুখোশের মুখ্য বৈশিষ্ট্য
মাঝে মাঝে আয়নায় তার মুখ দেখে সে, তার মুখ ফুঁড়ে
আবার হঠাৎই হারিয়ে যায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই।
থেকে থেকে মনে পড়ে ফকির লালন এরকম
কিছু একটা বলেছিল, তোমার ঘরে বাস করে কারা
ও মন জানো না। সে জানে না অজানা কেউ তার
ঘরে কীভাবে এলো তাকে চেনে না সে, বাড়ছে
এখন সদাভয় সদাসন্ত্রস্ততা ও তটস্থ সংশয়!
তারপর সকালে ঘুম ভেঙে গেলে সে টের পেল
আরেকজন কথা বলছে কণ্ঠ চুরি হয়ে গেছে
পথে দেখা হলো কারো কারো সাথে, তারা
হাত মেলালো, হাসিমুখে কিঞ্চিৎ বাতচিত
করা শেষে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপহীন চলে গেল।
বাসে ঝুলে অফিসে যাচ্ছে সে, আচমকা ব্রেক
কারো গায়ে হুমড়ি খেলে স্যরি বললো আরেকজন,
লোকটা তার দিকে কিড়মিড় করে তাকালো,
সে বাস থেকে তড়িঘড়ি নেমে ফুটপাতে উঠে দেখে
আরেকজন হনহন করে হেঁটে যাচ্ছে তার দেহটা নিয়ে।
সারাদিন আরেকজন তার হয়ে কথা বলে, তার হয়ে
খ্যাক খ্যাক করে হাসে কলিগের অশ্লীল রসিকতায়
ভরাট রিসেপশনিস্টের দিকে আড়চোখে তাকায়
লাঞ্চে কামড়ে কামড়ে খায় চিকেন তন্দুরি, আর
তার হয়ে মোড় থেকে চা সিগারেট খায়।
লিফটের আয়নায় সে দেখে আরেকজনের চেহারা
সেই ভাঁজে ভাঁজে সে নিজেকে আর দেখতে পায় না,
কাজের ফাঁকে বাথরুম পেলে ইউরিন্যালে আরেকজন
নিচে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসে, দৃষ্টি সরাতে গেলে
সে টের পায় আরেকজন তার চোখের দখল নিয়ে নিলো।
বাসায় ফেরে সে আরেকজনের মতো, দুঃস্বপ্ন মনে হয়
তার কাছে। দেখে দরজায় ক্লিপে সাঁটা ভাড়ার নোটিস
আরেকজন ভেতরে ফিক ফিক করে হাসে, টের পায়,
স্বয়ংক্রিয়ের মতো আরেকজন ভাত খায়, খাবারের স্বাদ
নিয়ে নেয় আরেকজন, সে ভাবে সে খড় চিবাচ্ছে।
শোবার আগে দাঁত মাজতে গিয়ে সে একইসাথে শোনার
ও ছোঁয়ার অনুভূতি হারিয়ে ফেলে, অথচ এবার যেন
ভাবান্তরহীন আরেকজন তার বিছানায় শুয়ে পড়ে।
এর পরে সে শুধু মনে করতে পারে চোখ বোঁজার আগে
প্রাণপণে ছাদের ফাটল দিয়ে অজস্র মাকড়শা নেমে আসছিল।
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৫
এখানে কেউ থাকে না এখন
ঘটনাটা কীভাবে ঘটলো বলি। আমি কবিতার প্রেমে পড়েছিলাম। দিনরাত কবিতা পড়তাম। নতুন কবিতা। পুরাতন কবিতা। চর্যাপদের বিলুপ্ত বাংলায় লেখা কবিতা। ইংরেজি মিডিয়াম বিদেশি শব্দ ভারাক্রান্ত কবিতা। ভেবেছিলাম এত এত কবিতা পড়তে থাকলে প্রেম উড়ে চলে যাবে। বিরক্তি ধরে যাবে কবিতার ওপর। কিন্তু বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম চব্বিশ ঘন্টা ধরে এলোমেলো উড়ো পঙক্তি মগজে ঘুরে বেড়াচ্ছে... জোনাকপোকার মতো জ্বলছে... নিভছে...
কবিতার প্রতি এই অদ্ভুত ভালোবাসা লুকিয়ে রাখতাম। আমাদের জনপদে কবিতা হাসিঠাট্টা আর মকারির বিষয়। কবিতা হোপলেসরা লেখে। কবিতা লুজাররা পড়ে। তাই আমি এই প্রেম লুকিয়ে রাখলাম। অমন প্রবল প্রেম এসব কথায় কমে নাই।
কীভাবে অবহেলার শুরু হলো তা ঠাহর করতে পারি না। এমন নয় যে কোনো এক সকালে উঠে কবিতাকে ঠেলে বিছানা থেকে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছি। এমনও ঘটে নি কখনো, কবিতা এসে মগজে ঘাই মেরেছে আর মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি। হয়তো হিংসুটে সময় আমাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছিল, কিংবা বারবার কবিতা নিয়ে সবার মিথ্যে কথাগুলো শুনতে শুনতে শুনতে আমিও বিষিয়ে গিয়েছি। হেমলকের পাত্রের কোষেও তো কিছু বিষ চুঁইয়ে চুঁইয়ে মিশে ছিল হয়তো...
অথবা হতে পারে এগুলো মিথ্যে অজুহাত, হতে পারে আমি নিজেই ভেঙে চুরে দুমড়ে ছুঁড়ে দিয়েছি কবিতাকে। কবিতার অনেক দাবি। সময় দাবি করে সে, দাবি করে মনোযোগ, তার হাতে লম্বা বাজারের ফর্দ থাকে প্রায়ই, মাঝে মাঝে সে চিৎকার করে ওঠে রাগে... তাই আমি নিজেই সরে গেছি দূরে! কাপুরুষ সাহস করে বিদায়টাও নিতে জানে না।
তারপর কেটে গেছে দিনরাত কবিতাবিহীন উন্মাদনাহীন হীন-দীন দিনযাপনের ফাঁকে টের পাই না কবিতার অনুপস্থিতি। মনের ভুলে দুয়েকটা পঙক্তি মাথায় সেঁধিয়ে যেতো, হুট করে চোখে পড়ে যেতো কারো লেখা কোন অপূর্ব কথামালা, অজান্তেই তাকিয়ে থাকতাম কোন ছন্দোমত্ত স্তবকে...
...শিহরণ!
পুরনো প্রেম কাছে টানে পুরনো কিছুই আর সেরকম নাই যদিও। বদলে গেছি আমি বদলে গেছে কবিতা, তাও সে কাছে ডাকে দুঃসময়ে আর নিরুপায় আত্মসমর্পণ ছাড়া কোন পথ খোলা থাকে না!
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
অভিমান
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
আমাদের কথা
অঝোর বৃষ্টির মাঝে অলৌকিক বাসের প্রতীক্ষা
বাস এলে উঠে পড়া যায়, দরজা খুলে গেছে
কিংবা তোমার জন্য আরেকটু দাঁড়াতেও পারি
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৫
শাহবাগ
প্রায় তো দুই বছর হইতে চললো। তেরো সালের ফেব্রুয়ারি থেকে-
এখন অব্দি কম তো গালি খায় নাই শাহবাগ। নিরীহ মাসুম চৌরাস্তার মোড়টারে
কী পরিমাণ এবিউজের শিকার হইতে হইলো - ভাবলেই মায়া লাগে।
কে না তারে গালি দিছে! কাদের মোল্লার পুত্র থেকে গোলামাজমের পুত্র,
লন্ডনের বড়ো গণতন্ত্র থেকে ব্যারনেস ভার্সি,
কমেডি সার্কাস জাতিসঙ্ঘের নাভি পিল্লাই পর্যন্ত
অভিশাপের পর অভিশাপ দিয়া ভরাইয়া দিছে।
(আমার মতে বিদেশিগুলান ঠিক মতো ভরাইতে পারে নাই
তাগোর ভাষা বিদেশি আর আমরা ফকিন্নির পুত ইংরিজি বুজি না)
তারা একটু ওপরে থাকেন আর দেবতাগো মতো মিষ্টমধুর গালি দেন।
সোজাসাপ্টা কইতে পারেন না। এই খামতিটা পুষায় দিছে বঙ্গপুঙ্গব চ্যালাচামুণ্ডা।
প্রথমে গালি দিল রাজনীতিবিদ, শাহবাগ তাগোর কথা শোনে না।
পলিটিকাল গালি যদিও পলিটিকালি কারেক্ট হইতে হয়
তাই সেডা বেশি দিন গায়ে লাগে নাই।
তারপর গালি দিল মাদ্রাসাত্থোন আসা অপগণ্ডরা।
বান্দররে নাকি ছাইড়া দিলে পবিত্র ঘরেও দরজা-জানালা
ভাইঙ্গা মুইতা রাখে। এই গল্পখানা মনে পড়লো মে মাসের পাঁচ তারিখ।
রাইতের আন্ধারে বান্দরের গণহত্যা! কী কমু সেই বিভীষিকার কথা! থাউক...
তারপর সবকিছু শান্ত হইয়া আসলে রাজনীতিবিদরা গিয়া কইলো
"বহুত হইছে এলা ক্ষান্ত দেও", বইলা শাহবাগ ভাইঙ্গা দিল।
আমরা বুঝলাম গালি অপেক্ষা লাঠি অধিকতর শক্তিশালী।
কিন্তু... এর পরে আইলো কিন্তু পার্টি। ল্যাখক কোবি কিন্তু পার্টি।
এই পার্টির সদর দফতর মতিচুরপাড়া। ফোন দিয়া এডিটর
কয় ভাই একটা ল্যাখা দ্যান, কয় আপা একটা ল্যাখা দ্যান।
হাইয়ে ল্যাখে, ফাল্গুনিতে ল্যাখে। ঘুরায়া প্যাঁচায়া দুই চারটা
কলামিস্টও ল্যাখে। শাহবাগরে গালাইতেই হইবো।
হেতিরে গালাইয়া শুয়াইয়া দেও।
শাহবাগ এইসব দেখে হাসতে হাসতে দুইটা পাদ মাইরা দিল।
সে সুগন্ধে মতিচুরপাড়া গন্ধ গন্ধ হইয়া গেল।
শেষ রাতে ঘুম ভাইঙ্গা গেলে বারান্দায় গিয়া দাঁড়ায়া ছিলাম।
বৈদেশের হাড়কাঁপানি শীতে আন্ধারটা মিশমিশা হইয়া থাকে।
তারপর আস্তে আস্তে সূর্যটারে উঠতে দেখলাম। ভাবতেছিলাম,
"প্রায় তো দুই বছর হইতে চললো"। ভাইবা মনটা উদাস হইতেছিল।
তখন দেখি ওই দূরে দুই বছরের গান্ধাগালির জামা গায় দিয়া শাহবাগ মিটিমিটি হাসতেছে
সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৫
আত্মজৈবনিক
মাথার ভেতর এই খেয়াল মাটিতে পড়ার আগেই আমি দুই ভাগ হয়ে
তর্কে নামলাম। এক ভাগ বলে ওঠে হয়তো আপ্নে কখনই
কবিতা লিখতে পারতেন না। শুনে অন্য ভাগ তেড়ে আসে,
বেশি বুঝেন ইচ্ছা হয় না তাই লিখি না নাহলে দেখিয়ে দিতাম।
আমি দুই ভাগের তর্ক শুনি, কমলার জুস খাই
জুস বেশ তেতো লাগলে ভাবি একটু চিনি মেশালে মন্দ হতো না।
অর্ধেক আমার সাথে বাকি আধখানা আমি
গলার রগ ফুলিয়ে চেঁচিয়ে-
একাকার, তর্ক চললো কয়েকশ’ বছর
তারপর টের পাই এ তর্কে নষ্ট সময় – নষ্ট জীবন – নষ্ট আয়ু
ভেতরে তখন দুই ভাগের জোড়াতালি লাগে, সেলাই করে দেই।
দুই ভাগ মিলে এক ভাগ হয়ে কবিতা না লেখার কারণ লিস্টি করতে বসে-
লিস্টিতে যোগ হয় উদয়াস্ত ব্যস্ততা
লিস্টিতে যোগ হয় একটু বুড়িয়ে যাওয়া
লিস্টিতে যোগ হয় স্নায়বিক চাপ
লিস্টিতে যোগ হয় প্রবাস-জীবন
লিস্টিতে যোগ হয় চিরচেনা নিরর্থকতা
লিস্টিতে যোগ হয় ভিন্ন পরিবেশ
লিস্টিতে ঢুকে পড়ে খাবি খাওয়া মাছের মতো একটি উপমা
লিস্টির তলে জমতে থাকে গ্রোশারির লিস্ট
লিস্টির আগে চলে আসে ট্যাক্স রিটার্নের ডেডলাইন
লিস্টিটাকে ওয়ালেটে রেখে ভুলে থাকার চেষ্টা করি।
কবিতা অনেকটা পূর্বজন্মের মতোন,
বিদ্যুচ্চমকের গতিতে ফিরে আসা স্মৃতির গাঁইতি শাবল
বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০১৪
স্মারক
হত-স্মৃতি কেন অপরূপ বিষাদ হয়ে
ফিরে ফিরে আসে? কুহকের মতো ডাকে!
'এই ক্ষণিক বাস্তবে স্বপ্নের স্থান নেই'
এ' সত্য কোন সিলেবাসে পড়ায় না কেউ।
অচকিত লাল ছোট্ট পাখি উড়ে গেলে
ওসব মৃত স্বপ্নের কথা মনে পড়ে-
যেন এক বিগত জন্ম, পরাহত দৃশ্য।
সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪
আবর্তমান
তুড়ি বাজিয়ে ডাকে আয়, আয়।
যেন অচেনা কৈশোরক-স্মৃতি,
বুকের ভেতরে অহমিকা মহাদেশ আর
ভ্রূকুঞ্চনে জমে থাকে অভিমান।
চকিতে শুনতে পাই বিবিধ দীর্ঘশ্বাস
ধুলোঝড়ের স্মৃতি আর শিশিরমাখা ঘাস।
এসব রিক্ত পাহাড়ি গ্রামে ওসব বেমানান।
*****
(শুভ জন্মদিন জীবনানন্দ। তুমি এসে বুকে ক্ষুধা জাগিয়ে দিলে। এক বুক ক্ষুধা নিয়ে তাই তোমার কাছেই ফিরে আসি বারবার।)
মঙ্গলবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৩
বৃষ্টিসন্ন
শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৩
স্বীকারোক্তিনামা
বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২
অবিশ্বাস্য
তাই রোদের দিকে তাকিয়ে অকারণ কারণে দীর্ঘশ্বাস ফেলা হলো না
শুনলাম অনেকটা গুজবের মত অবিশ্বাস্য চড়ুইয়ের ডাক!
কোত্থেকে এলো! পথ ভুলে আমার মতই, হয়তো;
নিজেকে অমন প্রবোধ দিই। কিন্তু মনে মনে
ঠিক জানি, এই চড়ুই আমার মত নয়,
আমার আগমন পথ-বিভ্রান্ত নয়
ওই দ্রুতগামী অস্থির রোদটুকুর মত
হয়তো আমাকেও শুনছে কেউ -
আমি যেমন এইমাত্র শুনছিলাম চড়ুইয়ের স্বর,
তেমনি আমাকেও শুনতে পেয়ে অবিশ্বাস্য ভেবে
অবাক হচ্ছে কেউ, বিস্ময়ে নিজেকে ভাবছে
শনিবার, ৭ জুলাই, ২০১২
মোনাম্যো'
যা হাজার চেষ্টায়ও জ্বলে না, আবার একবার জ্বলে উঠলে ঝড়ঝাপ্টাতেও নেভে না।
Ishq par zor nahin, hai yeh woh aatish Ghalib
Jo lagaye na lage, aur bujhaye na bane
[Love can't be tamed, it's like a fire that overpowers everything else
At times, it doesn't start even after repeated tries; but once started, it's impossible to extinguish.]
পলিমাটির ওপর যে সবুজ ঘাস জন্মেই বেড়ে ওঠে দুরন্ত বাতাসে,
সেই ঘাসের মনের কথা শুনলে হয়ত দেখতে পেতাম এক উড্ডীন শখ তার মনে।
সে ভেবেছে সে একদিন এই পলিমাটি ছেড়ে উড়ে যাবে,
শেকড়ের মায়া তার কাছে বন্ধন, এই অর্গল ভেঙে যাবে
বাতাসের মৃদু হাসি তার শীর্ষ ছুঁয়ে যায়, আলোর রশ্মি তার ত্বকে মোলায়েম পরশ বুলায়
সে অপেক্ষা করে...
পলিমাটির মনের কথা জানতে পেলে দেখবো, অণু অণু মৃত্তিকা কণায় বেঁধেছে সে চিরহরিৎ জাল
তার গোপন প্রেম এই তরুণ ঘাসের সাথে, সে কোন কথা বলে না, শরমে মরমে মরে
তার নিঃশব্দ হাসিই বলে দেয়, প্রেমে পড়েছে সে, তাই নিঃশব্দেই জাল বোনে সে ঘাসের শেকড়ে
কালো নিকষ শেকড়টুকু ঘাস লুকিয়ে রেখেছিল পলিমাটির বুকে, সেই কালোকেই বুকে টেনে নেয় মাটি - বিনা আপত্তি
I hope you don't mind that I put down in words
How wonderful life is while you're in the world
কালো পলিমাটি অবাক হয়ে দুরন্ত ঘাসের সৌন্দর্য দেখে - উজ্জ্বল কান্তি যার, বিশীর্ণ হরিদাভা! ঈষৎ বাতাসে দুলছে সে! কী অপার্থিব কোমল তার শরীর! পলিমাটির বিস্ময় ঘোচে না। সে অপলক তাকিয়ে থাকে...
রাত নামে চরাচরে-
এই চন্দ্র-কাতর রাতের সৌন্দর্য দেখ, তোমার আরক্তিম কুন্তলের 'পরে সে যেন ঝিকিমিকি-মুকুট
তোমার লাল রঙ মেখে সে লজ্জাবনত মিশে যাচ্ছে তোমার আটপৌরে পোশাকের প্রান্তে
তোমার জীবন-ক্লান্ত চোখের কোণে শুভ্রাভা মিশিয়ে দিচ্ছে সে
পথবালিকা, রাজরাণী, আমার অভিবাদন নাও, ভগ্নহৃদয়ের কান্না নাও
La lune trop bleme pose un diademe sur tes cheveux roux
La lune trop rousse de gloire eclabousse ton jupon plein d'trous
La lune trop pale caresse l'opale de tes yeux blases
Princesse de la rue soit la bienvenue dans mon coeur brise
[The moon, all too fair, in your russet-red hair sets a sparkling crown
The moon, all too red with glory, is spread on your poor, tattered gown
The moon, all too white, caresses the light in your world-weary eyes
Princess of the street, do allow me to greet you, my broken heart cries]
তুমি চিরঞ্জীবী-সুধা, তুমিই সৌরভ প্রাণময়
নিশ্চুপ ফিসফাসে আমায় স্পর্শ কর, চাহনিতে ছুঁয়ে যাও
জাগরণে-অজাগরণে তোমায় প্রণমি
Chhooti hai mujhe sargoshi se, aankhon mein ghuli khamoshi se
Main farsh pe sajde karta hoon, kuchh hosh mein kuchh behoshi se
[You are like the fragrance of life itself,
You're the desire that touches me with a whisper and with the silence in your eyes
I bow to you, only partly conscious of myself]
পলিমাটি আর ঘাসের এই গল্পটা অসমাপ্ত থাকুক। কিছু কিছু গল্প চিরন্তন। অনন্তকালব্যাপী সেই গল্পগুলোর অনুরণন হতে থাকে। ক্ষুদ্র আমি সেই গল্পের কতটুকুই বা জানি, আর কতটুকুই বা বলতে পারি?...
*****
[মোনাম্যো' - Mon Amour - My Love]
[কৃতজ্ঞতাঃ জাঁ রেনোয়াঁ, গুলজার, মির্জা গালিব, বাজ ল্যুরম্যান]