রবিবার, ১৫ জুন, ২০০৩

নামহীন

আজ সকালে একটা মানুষ দেখেছি..............
না, না; রোজ রোজ কত কত হাজার অযুত
সাদা কালো ময়লা নোংরা মানুষ নয়!
শাহবাগের মোড়ে পৌঁছানোর আগেই
দেখি রাস্তার পাশে রাবিশ আর
ভাঙ্গা পলেস্তারা স্তূপ স্তূপ হয়ে আছে,
মনে হলো শক্তি কমিশন আর সম্প্রচার কেন্দ্র
ভেঙ্গে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে।

.......কবিতাটা কি খুব বেশি সুররিয়েলিস্টিক হচ্ছে?
নাকি বোঝার অবোধ্য কোন অনন্ত বোধ
আক্রান্ত করেছে আমায়?
কিন্তু মানুষ একটা আজ আমি দেখেছি
পায়ে শিকল বাধাঁ--দুমড়ে মুচড়ে ঘুমাচ্ছে
তার সেই ঘুম আর ঘুম দেখে মনে হলো
কত-কত-কত বছর ঘুমাই না আমি!

সোমবার, ২ জুলাই, ২০০১

স্বপ্নেরা কথা কয়

স্বপ্নেরা টুপটাপ ঝরে পড়ে হৃদয়ের কার্নিশে
শত কোলাহল যেন স্তব্ধতায় লীন হয়ে যায়
শুধু শোনা যায়, স্বপ্নপতনের ধ্বনিত প্রতিধ্বনি
বাতাসে ঝলসে ওঠে কাতর আর্তনাদ।
প্রেয়সী বাতাস-- তার বুক চিরে যায় চকিতে
হাহাকার মিশে থাকে কনে-দেখা আলোয়
দিগন্তের রেখা মুছে যায় নির্ভুল প্রণয়ে
আর সূর্যের সাথে তার নিবিড় মিলনে।

চরাচর মিশকালো,
হায়েনার চোখ জ্বলে রাস্তায় রাস্তায়
সূর্য ডুবেছে কেন? জানো কি তুমি?
আজ বিকেলের রোদ মরে গেছে
কুকুরের পঁচা-গলা লাশ যেখানে পড়ে আছে।
আকাশের টুকরো টুকরো নেমে এসেছিল
নগরীর প্রান্তে, যেখানে অরণ্য ঘুমিয়ে রয়।
দেখনি তুমি-- মাথার উপরে প্রচণ্ড আকাশ নেই--
আছে তার কঙ্কাল। আকাশের পাঁজরের
হাড়ের ফাঁকে কালো শূন্যতা মুখ ভ্যাংচায়।
অরণ্য আদিম আর নিষ্পাপ থাকেনি
বাতাস তখনো যেন ধর্ষিত হয়নি।
টেট্রন-পলিয়েস্টার, থার্টি ফাইভ- সিক্সটি ফাইভ
কাপড়ের ছেঁড়া টুকরো পড়ে থাকে।

ঘাসেরা বিবর্ণ যেখানে,
কিশোরী ধরণী যখন চুপচাপ প্রলাপ বকে।
তার বুকে শুয়ে থাকে নরমাংস
যার হৃদয় আজ চিরে ফালাফালা
এলোকেশী? তার এলোমেলো চুলগুলো
আমার মুখে জড়িয়ে থাকে, যেন ভেজা গোলাপ।
রাত বাড়ে অরণ্যে, সিক্ত শিশিরের পদশব্দ।
আজিকার বিকেলের মেয়ে--কারা যেন তার
হৃদয়টাকে ছিঁড়ে নিয়েছে।
বুকে তার জমাট বাঁধা আধাঁর হারায়--
নখের আঁচড় আর রক্তের শুকোনো দাগ....
সেখানে ঘাস মাটি প্লাবনে ভেসে যায়
এলোকেশী পঞ্চদশী---
তার রক্তের কুলুকুলু ধ্বনি... শুধু রক্ত বয়ে যায়
এলোকেশী বিস্রস্ত!

বিস্রস্ত সেই প্রতিবিম্ব ঢেকে দেয় আঁধার
এলোকেশী তবু পড়ে রয়।
ঘুমাও তুমি, যেন কতকাল পরে আমি
তোমায় দেখি সেই আঁধার কালো অমানিশায়
রাত বাড়ে অরণ্যে, হলদে হলদে পঞ্চমীর চাঁদ
হাসিমুখে উঠে আসে এলোকেশীর পায়ে।
যেন চুপি চুপি চুমে যায় তার পায়ের ভাঙা নুপুর।

স্বপ্নেরা টুপটাপ ঝরে যায় হৃদয়ের কার্নিশে।

মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০০০

প্রথম দেখা

চারপাশে রোদের ঢেউ আছড়ে পড়ে গালে
পায়ের তলে পিচে ফুটে খই
ধোঁয়া আর ধূলিময় ধরণীতে বসে ভাবি
নরক থেকে খুব দূরে বুঝি নই।
কোথা থেকে নাকে অচেনা গন্ধ এসে লাগে
ক্লেদাক্ত সেই প্রহরের এক অজানা অচেনা সুবাস
মুখ ফেরাতেই.......
হঠাৎ হৃদস্পন্দন যেন থেমে যায়.........
আবর্জনামাঝে কোন গোলাপকেও দেখিনি এত নিষ্পাপ আর পবিত্রসাজে
কালো আকাশের চাঁদও বুঝি লজ্জা পাবে
তাকে দেখে
মূহুর্তেই ইন্জিনের ভট্‌ভট্‌, কালো ধোঁয়া, বাসের হর্ণ আর কোলাহল
রুদ্ধ এই বুকে নিস্তব্ধ নিশ্চল হয়ে যায়।
নির্লজ্জ আমি তাকে দু'চোখ ভরে দেখি--শুধুই দেখি
তাকে--বলিনি কিছুই আমি,--কেন জানি!
বিস্ময় আর আবেগ হয়তো করেছিল গ্রাস, আমার হৃদয়।


উন্নত সেই শহরের অনুন্নত এক যানে
সে আমি মুখোমুখি--তফাৎ শুধু দুইজনের যতদূর
অন্যসময় তাতে সে লজ্জা পেত.................
আমার হৃদয় অস্থির হয় বারেবার
বোঝেনি কিছুই সে, কেন জানি; বড় নিষ্ঠুর!
বাইরে তখন লু হাওয়ার মাতামাতি
ইন্জিন চলে ধুঁকেধুঁকে, যেন যক্ষার রোগি
ফুসফুস ভরে মনোক্সাইড বিষে, করে জ্বালা চোখে
তবু তা নির্নিমেষ, তাকিয়ে রয় -- শুধুই তার পানে
হঠাৎ দমকা হাওয়ায় এলোমেলো হয় সে
হাওয়ায় ওড়ে আঁচল তার, এসে পড়ে আমার হাতে
হয় সে ত্রস্ত-চঞ্চলা
যেন অতিচেনা, এক মেদুর সুবাস পাই--
ফিরিয়ে দিই তার সে আঁচল কাঁপাকাঁপা হাতে
তবু ক্ষণিকের তরে সুমুখে আমার
খুলে যায় এক সোনালি দরোজা
করিনি অনুপ্রবেশ--পাছে ভয়...............
সে যদি কখনো আমার না হয়!
এক টুকরো আকাশ দেখলাম, তার বুকের মাঝে
নরম, পেলব
তার বুক, যেন আজ চৈত্রের দারুন দুপুরে
সেখানে শুধুই নিষিদ্ধ আলো খেলা করে
শুভ্র তার অন্তর্বাস ক্ষণমাত্র ধরে, দেখা দিয়ে যায় হারিয়ে
যা গান হঠাৎ শুনেছিলাম এক প্রভাতে
আমার হৃদয়ে তার কল্লোল, উচ্ছাসে ওঠে মেতে
শুধু সে...........একবার তাকিয়ে চোখ তার নিল ফিরিয়ে
দেখল না, কী আকুলতা আজ আমার চোখের নীড়ে!


নির্লজ্জ আমি তাকে দু'চোখ ভরে দেখি,
কারণ?
এত পবিত্র সৌন্দর্য কখনো দেখিনি আমি আগে!

মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর, ১৯৯৯

কষ্ট

নিজেকে মাঝে মাঝে বড় ক্লান্ত লাগে--
সেই একই কাজের শেষে
ঘর্মাক্ত শরীরে ঘুপচি ঘরে ফেরা।
তালা খুলতেই গুমোট গন্ধটা নাকে লাগে।
তারে ঝোলানো ময়লা তোয়ালে, ভেজা গেন্জি
বিছানায় তেল চিটচিটে বালিশ
টেবিলে আধ কাপ বাসি চা, চায়ের পিরিচে
পিঁপড়ে আর পোকা মাকড়ের ঘর বসতি,
শ্রান্ত ক্লান্ত দেহে যখন গা এলিয়ে দেই বিছানায়
শুরু হয় মশককূলের সুরসঙ্গীতের রেওয়াজ।


একটা সময় ছিলাম আপন ভূবনে
সেই ভূবনের সৌন্দর্যে আমি নিজেই মুগ্ধ হতাম
তারপর.....তারপর একজনের সাথে দেখা হলো
ধীরে ধীরে কাছে আসা, পরিচয়, পরষ্পরকে বোঝা
সে আমাকে স্বপ্ন দেখালো, মায়াবী
সেই অপরূপ স্বপ্লগুলো বাঁচার প্রেরণা দিলো।
এক রূপালি রাতে মাথার ওপরে প্রচণ্ড আকাশ
চাঁদের জ্যোৎস্নাধোয়া চারপাশে এক অপার পবিত্রতা
তখন তাকে দিলাম আমার সবচেয়ে দামী আর প্রিয়
সেই আপনভূবন - সারা জীবনের এক পরম ঐশ্বর্য
সেদিন তাকে লাগছিল যেন পূর্ণিমার প্রতিমা!
যার খোঁজে আর অপেক্ষায় কাটিয়েছি কত দিন, বিনিদ্র রজনী।


দিন যায়, ঘড়ির কাঁটাগুলো অতিক্রম করে দীর্ঘপথ
একদিন অবাক বিস্ময়ে নিজের মাঝে আবিষ্কার করলাম
কেমন যেন অনুভূতি ; প্রেম নয়, ভালোবাসা
তার কাছাকাছি হলেই কেমন নড়াচড়া করে বুকের মাঝে
আর দূরে যাই তো সেখানে অনুভব করি
.............আদিগন্ত বিস্তৃত শূন্যতা।
যে শূন্যতার আছে শুধু কুরে কুরে খাওয়ার ক্ষমতা
আমাকে যা করে দেয় রিক্ত, শূন্য।
আবার সে আসে, যেন এক ঝড়ের মতো
লণ্ডভণ্ড করে দেয় আমার অস্তিত্ব।


তারপর, তারপর হয়তো একদিন, এক ঘোর অমাবস্যায়
সে চাইল মুক্তি, আমার আপাত বিরক্তিকর ( তার কাছে যা অসহ্য )
ভালোবাসার মায়াজাল থেকে। নিজেই পারতো;
কিন্তু মানসিক দুর্বলতার হেতু সে আমার কাছে রেহাই চাইল
অকস্মাৎ অভিমানী বিপ্লবে ডুকরে উঠলাম।


তারজন্য সেদিন নিয়ে এসেছিলাম রক্তলাল গোলাপ
লুকালাম সেগুলোকে দক্ষ ক্ষিপ্রতায়।
কারণ সে এগুলোর প্রয়োজন ফুরিয়েছে আগেই
জানালো তার অপারগতা আর অক্ষমতা, সবশেষে
নিঃসন্দেহ আর্তিতে সে মুক্তি চাইল।


এই আমি ফিরে চলেছি
হাতের গোলাপগুলে যেন কেমন ঠাট্টা করছে
স্ট্রীট ল্যাম্পের সারিবাঁধা দল যেন একাকী দাঁড়িয়ে
গাছের পাতা অল্প অল্প শিরশিরায়
আকাশের তমসাচ্ছন্নতায় হাজার লক্ষ নিযুত কোটি তারা
আমি টের পাই, অন্ধকারে হাতড়ে দেখি নি:সীম শূন্যতা
সাজানো স্বপ্নগুলো ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ে
পারি না ধরে রাখতে, বেঁধে রাখতে,
রেখেই বা কী লাভ?
যাকে প্রবল ভালোবাসায় ধরে রাখতে পারিনি;
তার দেয়া স্বপ্ন গুলো
যাক না হয় ঝরে, যাক না হয় হারিয়ে।
এখন আর কোন কিছুতেই কিছু আসে যায় না।


সবার প্রতি তীব্র অভিমান হলো
অজানা আক্রোশে যখন হৃদয়টা পূর্ণ হলো
তখন চলে এলাম এক নিভৃতে
যেখানে কেউ আসবে না আমাকে কষ্ট দিতে
আমার অসীম নিজস্ব মানবিক কষ্ট নিয়ে
আমি কাঁদব, ঘুমাব, আবার ঘুম ভেঙ্গে কাঁদব
বুকের সেই শূন্যতায় পেয়িং গেস্ট হিসেবে
থাকতে দিয়েছি কষ্টগুলোকে, বড় বেশি চড়া ভাড়ায়
যাতে আর কখনো কেউ সেই শূন্যতা
পূর্ণ করতে না পারে।


আসলেই নিজেকে বড় বেশী ক্লান্ত লাগে।

মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ১৯৯৯

প্রশ্ন

হলুদ আলোয় ভরা এক সিঁড়িতে
সিঁড়ির তৃতীয় ধাপে দাঁড়িয়ে,
নির্দোষ আহ্বানে তাকে ডাকলাম কাছে,
ইতস্তত পদবিক্ষেপে কাছাকাছি হয়ে তার প্রশ্ন-
"কি?"

মনের অন্ধকার স্যাঁতস্যাঁতে গলি থেকে
যে প্রশ্নটা হামাগুঁড়ি দিয়ে বেরোলো - তার
মুখাবয়ব অচেনা না হলেও, কেমন যেন
ভয় লাগল প্রশ্নটাকে। হয়ত সেজন্য
নিজের কাছে না রেখে সেটা ছুঁড়ে দিলাম তার দিকে।

বিস্ময়ানুভূতির প্রাথমিক ধাক্কা কাটতেই
সেই হলুদ সিঁড়িধাপ থেকে সে
অবনতিপূর্বক; নিষ্ক্রান্ত হলো।
হয়ত এতেই সে মুক্তির পথ পেয়েছিল।

কিন্তু জগতের সকল পুনরাবৃত্তির ন্যায়
সে ফিরে এলো সেই হলুদাভ সিঁড়িতে-
সেখানে আমি না থাকলেও-
ছিল প্রশ্নের কর্তাকারক।
পরবর্তী কতগুলো মুহূর্তে তার হাতে
জমা হলো ভাঁজকরা কাগজ, যাতে লেখা
একজনের দ্রবীভূত আর আরেকজনের
বাষ্পীভূত হওয়ারই ঘোষণা!

একজন নির্লজ্জ চশমখোর
এই কবিতার লেখক হওয়ায়
নির্লজ্জের মতই তার কাছে পুনরায় প্রশ্ন করি
এবারেরটাকে তো চেনাচেনা লাগছে।

প্রশ্নটা হলো...
আরে! পুনরায় তার নিকট আর কোন
প্রশ্ন করার অবকাশ নেই
কারণ সে মোর বড় আপন ছিল,
কিন্তু এখন বহুদূরের।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ১৯৯৮

কথোপকথনঃ স্বগতঃ

: কাল রাতে আকাশে কোন চাঁদ ছিল না
চারিদিকে তারাগুলোকে মনে হচ্ছিল,
কালো ছাতার অসংখ্য ফুটোর মতো
যদি তখন তোমাকে দেখতে পেতাম
তাহলে নিঃশ্বাসটাকে আর আটকে রাখতাম না
তাহলে এই বারো বাই বারো ফুট ঘরটাকে মনে হতো-
স্বর্গের তিলোত্তমা প্রাসাদ।


: জানো, মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয়, ঐ উষ্ণ হাতের পরশ
নিজের হাতদুটো দিয়ে ধরে রাখতে।
ইচ্ছে হয়, ঐ অনিন্দ্যসুন্দর চোখ দুটো
নিজের মনের চোখে সারাজীবনের সূর্য বানিয়ে নিতে।


: আজ রাতে আকাশে দেখা দিয়েছে-
ডিঙ্গি নৌকার মতো, সাদা একফালি চাঁদ
আর আমি সেই ঘরের লালচে নীল আলোতে
তোমার কথা ভাবছি--


: হয়তো প্রতিটা মানুষের জীবনে একটা সূর্য আছে
যে সূর্যের সূর্যাস্ত নেই, নেই মধ্যদুপুরের
ঝিম ধরানো রোদ। আছে নরম, আমেজী আলো
মাঠভরা শিশিরভেজা ঘাসে আলোর স্বর্ণবিন্দু।


: আমার মনের বারান্দায় আমি তোমার
পদধ্বনি শুনতে পাই--
কিন্তু এক পদশব্দ আর তার হাজার প্রতিধ্বনি
আমার কানে বাজে, আমি অপেক্ষায় রই--
তোমার--------
তুমি আসো, আবার চলে যাও
সাথে নিয়ে যাও ইচ্ছের ঝাঁপি-- অপূর্ণ
ইচ্ছেগুলোকে বাস্তবতার পাথরচাপা দেই।


: আর আমার মনের সেই সূর্য --
ঢাকা পড়ে ঈশানী-হতাশার মেঘে।
সেই অন্ধকারে ডুবে আমি বিষণ্নতার স্পর্শ পাই,
আমি জেগে উঠতে চাই
কিন্তু যেন আরো অতলে তলিয়ে
বহুদুরের ফেরারী হই।

সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ১৯৯৭

শূন্যতা

আমার মাথার ভেতর লক্ষ কোটি নিযুত তারা নক্ষত্র খসে পড়ে
স্মৃতি জুড়ে মহাকাশের মত শূন্যতা অনুভব করি
মনে হয় কোথাও যেন হারিয়ে গেছি।

পাগল উদভ্রান্তের মত ঘুরে পথ হারাচ্ছি
খুঁজে পাচ্ছিনা কোন উদ্দেশ্য; মনে হচ্ছে
আমার কোন গন্তব্য নেই, জ্বালা নেই, যন্ত্রণা নেই
শুধু বুক জুড়ে নিঃসীম অনন্ত শূন্যতা, শুধুই শূন্যতা
অপার শক্তিশালী সেই শূন্যতায় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র
ধূলিকণার মতো উড়ে যাই, দিশেহারা আমি।

আমার হৃদয় আজ মহাসাগরসম
যার জলরাশি গেছে শুকিয়ে, খাঁ খাঁ সেই
শুন্যতায় আমার হৃদয় হাহাকার করে ওঠে
চিৎকার করে বলতে চাই, পারি না।

আমার দুঃখ কষ্ট উত্তপ্ত লাভার মতো
চুঁয়ে চুঁয়ে পড়ে, ধীরে ধীরে গ্রাস করে সমগ্র চরাচর
জীবনের সকল দৃষ্টান্ত যেন ধোঁয়া হয়ে উড়ে যায়
সেই ধোঁয়ার সাথে মিশে যায় আমার যাবতীয় আনন্দ
ছোট একটা হৃদয়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আনন্দ হারিয়ে ফেলি
একেবারে নিঃস্ব আজ আমার কথন
শুধুই প্রতিধ্বনি হ্য়।

হাহাকার আর আহাজারিতে আমি ডুকরে উঠি
অসহায়ত্ব আর আত্মসমর্পণের শেষ সীমায় দাঁড়িয়ে
শুধুই রিক্ততার বিষাক্ত এলাকায় যাবতীয় শূন্যতা নিয়ে
আমি মুখ থুবড়ে পড়ে থাকি।

মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ১৯৯৭

বিস্মৃত স্বাধীনতা

জীর্ণ কবরটার পাশে মাথা নুয়ে
কোন এক অদৃশ্য শক্তির বন্ধনে;
আমি হয়েছিলাম ক্ষতবিক্ষত।
কোন এক শহীদের আত্মতৃপ্তির কাছে
পরাজিত আমাদের তথাকথিত সভ্যতা।।
যদি এই ছিল আদৃষ্টের লিখন
তবে কেন এই মরীচিকার পেছনে ছুটে চলা?

রক্তক্ষরণএ প্লাবিত, অশ্রুক্ষরণে স্নাত
সেই রিক্ত স্বাধীনতা!
এই মিথ্যা আত্মত্যাগ, এই মিথ্যা স্বত্বত্যাগ
কোন উপকারে কি এসেছে?
যদি কোন অজ্ঞাত কোণে,
জেগে ওঠে সেই শহীদের স্মৃতি,
কোন সুপ্ত দ্বিপ্রহরে, যদি এসে শুধায়
কী হবে তার উত্তর?