শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০০৯

চক্র

তোমাকে গড়ছিল কেউ,
জঠরের ভেতরে মাতৃকা মিশিয়ে আঠালো স্নেহে
তুমি ভ্রূণ থেকে স্বচ্ছ অভ্রশরীরে বেড়ে ওঠো
অপত্যকোষে মায়ের মায়া শুষে নাও নাভিমূলে
উষ্ণতরলে ডুবে তুমি গোলাপি-স্বপ্ন গড়ো!


প্রসবের শোকে তুমি প্রচণ্ড চিৎকার করে কাঁদো
বিকট জান্তব পৃথিবীর বাতাস তোমাকে গিলে খেতে
দ্রুতগতিতে ছুটে আসে
সজোরে জাপ্‌টে ধরে
খর-আঁচড়ে তোমার নতুন ত্বকে দাগ ফেলে দেয়!


প্রবলশোকও মানুষ কাটিয়ে ওঠে- এমন নিয়ম মেনে নিয়ে
তুমি বেড়ে ওঠো,
অঙ্গহানি ছাড়াই তোমার শৈশব কৈশোর কেটে গেলে
তুমি খানিকটা নীরবেই, গর্ভস্মৃতি ভুলে যাও
পরিবর্তে, খানিকটা নিয়মেই, তুমি ধর্ষকাম পৃথিবীকে ক্ষমা করে দাও।


তারপর নিখুঁত-বুননে তোমার ফেলোপিয়ানেও জমে
সমূল-জাইগোট, আদিবিন্দুপ্রাণ!
ধারণের তীব্রস্বাদে তুমি ব্যাপ্ত হও চেতনায়
মাতৃকণায় একইভাবে মিশিয়ে দাও মায়া।


তারপর একদিন হৃদয় ছিঁড়ে একটুকরো ভালোবাসা বেরিয়ে এসে তোমাকে পূর্ণ করে দেয়!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই গ্যাজেটে একটি ত্রুটি ছিল