বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০০৯

মধ্যমাস জর্নাল


সকলের মত সকাল আসে না আমার
জানালায়
ভোর কিংবা সকালের রোদসকল দানাবাঁধা
সিলুয়েট
ছবিহীন দুপুর আঁকতে থাকে নিরলস শ্রমে।


২.
আমাদের শহরে বছরের মাঝের মাস দু'টা ঘুণপোকার মতো একাগ্রতায় বিঁধে থাকে। কাঠের শরীর কুরে কুরে খাওয়ার সুখ পেতে থাকে মধ্যমাসের ঘন্টাগুলো। তারা শ্লথ এবং নির্বিকার, সেই কারণে অনেকাংশেই নিঃসংশয়ে আমাদের শহরের ইতিহাস থেকে মধ্যমাসের ঘটনাবলি ঝরে যায়। জুন ও জুলাই মধ্যমাসের টানাহ্যাঁচড়ায় পড়ে বাদী-বিবাদী অথবা বাঁদী হয়ে আদালত চৌকাঠে আছড়ে পড়ে। কোমল নিঠুর শহরের রাজপথে জুন ও জুলাই যেভাবে বিস্মৃত হয় সেই দুর্ধর্ষ ঘটনার বিচার চাই-- আমরা নীরব জনগণ এবং ধর্মালয়ের জাগ্রত পিতা! জুন ও জুলাইয়ের খিন্ন-বসনা শরীরের দিকে আমরা জুলজুল করে তাকিয়ে থাকি। আরে ভিখারীর শরীর এমন ডগমগে! কোথায় খায়, কোথায় পরে? জানা গেছে কি মোক্তারের নথিতে সে'সকল আখ্যান? আমাদের মননে জুন ও জুলাইয়ের ভাঁজ ঢুকে যেতে থাকে নিরন্তর ঘামের সাথে। আদালত কক্ষের বাইরে সকাল বা বিকাল গড়িয়ে যেতে যেতে মধ্যমাসের শরীর শীর্ণ ও জীর্ণ হয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা বুকে পুষে রাখি আমরা।


৩.
আমার যন্ত্রণাদায়ক যন্ত্রের রোগে ভোগা শরীর থেকে গত পরশু জীবন বেরিয়ে গেছে। নিথর, নিস্পন্দ বুক দেখেও আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই, আশার নিভন্ত সল্‌তে তখনও দপদপাচ্ছে যে এক্ষুনি ঈষৎ ফুলে উঠবে নির্ঘাত। এই জীবন বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাটিতে যেরকম আন্দোলন ও প্রতিক্রিয়া আশা করা যায়, তার কোনটিই আমি অনুভব করি না বলে আশ্চর্য লাগে। মৃতের প্রস্থানের চাইতে জীবিতের ভাবলেশহীনতা আমাকে পীড়িত করে। সেইসাথে মৃতের প্রভাব কেটে গেছে, আমি তার তাবৎ স্মৃতি ও কান্নার শেকল থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে পেরেছি, এমন মহাতৃপ্তিতে আমি কোমল ও আকুল হর্ষবোধ করি। যুগপৎ হর্ষ ও পীড়া, যুগপৎ শান্তি ও শ্রান্তি আমাকে ঝাঁঝরা করে দিতে থাকে।


৪.
খেলাপ্রেমের বেলা গেল
সেই সাথে উল্লসিত বন্ধু
আর উচ্ছ্বসিত বাতাস এল
আমাদের মাঝ থেকে আমি
ছুটে ছিটকে পড়লাম
বুঝলাম-- এই বাতিঘরে
আমাদের দিনাতিপাত
ফুরিয়েছে সকল চাহিদা,
বৃথা খেলা বৃথা অশ্রুপাত!


৫.
গতরাতে সংকুচিত বিছানায় শীতের বাতাস
বৃষ্টিছাঁটের সাথে এসে আশ্রয় নিলো
শাদা চাদরের কোঁচকানো ত্বকে ধীরে ধীরে
ব্যাপিত শৈত্য ও সিক্ততা
রোমান লিজিওনের মত ক্ষিপ্র দ্রুততায়
আমাকে স্পর্শাকুল করলো।
আমি নিঃসন্দেহ হলাম, এটা শ্রাবণ।
জুন ও জুলাইয়ের চক্করে, চিৎকারে আমাদের দিনপঞ্জি থেকে শ্রাবণ মুছে গেছে। যেভাবে পাতায় শুকনো কালির দাগ ম্রিয়মাণ স্রোতের পিঠে করে হারিয়ে যায়, শ্রাবণ ও বর্ষণ সেভাবেই পশ্চাতে হটে গেছে। রোমান লিজিওনের মত কেবল স্মৃতিময় দৈন্যতায় তারা আমার বিছানায়, সংকুচিত পরিসরে ঘুরে বেড়ায়। হায়!
আমি সরে যাবার বদলে একটু নিবিড় হই।
যন্ত্রের শীতল শরীরের মত শৈত্য
আমার ত্বক ও হাড়ে প্রবেশ করলে
একাত্ম হয়ে ওঠার সুখ সুখ কোমল আগুন
আমাকে পোড়াতে থাকে।




***
[গত দু'মাসের টুকরো টুকরো চিন্তাগুলো জুড়ে বাঁধাইয়ের চেষ্টা। আমার কারিগরি খারাপ নিশ্চয়ই, না'হলে এমন বেখাপ্পা লেখা নিয়ে দুঃসাহস কীভাবে দেখাচ্ছি!]

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই গ্যাজেটে একটি ত্রুটি ছিল