মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০০৯

অ্যাবসার্ডিটি

"প্রস্তাব ছিল, আমরা যখন যূথবদ্ধ শিকারী তখন আমাদের কেশরের ফুলে ওঠায় শিউরে উঠবে বাগানের সকল বিড়াল"- এই শালা চুপ কর! কথায় কথায় অশ্লীলতা টানিস কেন?


আমার দিকে খুব খেউড়ে ওঠা দৃষ্টি ছুড়ে দেয় মাইদুল। কাজী মাইদুল হক। আমাদের গুরু। আর আমরা তার চ্যালা। চ্যালা হতে পেরে আমরা খুব খুশি। মাইদুল হকের মত মানুষ আমাদেরকে তার পদতলে রাখছেন, মাঝে মাঝে লাথি-ঝাঁটা মারছেন, খ্যা খ্যা করে হেসে উঠছেন অবান্তর। তখন আমরা মুখ চাউয়াচাউয়ি করি মহাবেকুবের মতোন, তারপরে খুব বুদ্ধিমানের মতো হাসার চেষ্টা করি। দাঁত বের হয় আর অল্প আলোতে সেগুলো ঝিকমিকিয়ে ওঠে। কালোমানুষের দাঁত ঝকঝকে হয়। তবে শব্দ বের হয় না। কালো মানুষের কোন কণ্ঠস্বর থাকে না শুনেছি। সেই শ্রুতবিদ্যার ভরসায় আমরা নিঃশব্দে হাসি। মাইদুল হকের তাতে মন ভরে না, সে শূন্যতা ভরতে আরো জোরে খা খা করে হাসতে থাকে। একটা পর্যায়ে তাকে আমাদের হিস্টিরিয়ার রুগী বলে ভ্রম হয়। আবার কখনও মাইদুল হককে খুব বিষণ্ণতায় পেয়ে বসে, সে তখন আমাদের নতুন লেখাগুলো পড়তে বলেন। আমরা ভয়ে ভয়ে খাতা খুলি, মনে মনে বলি, মাইদুল শালা খিঁচড়ায়ে আছে। আর কপালটাও খারাপ! প্রথমে আমাকেই বললো পড়তে। শুরুতে গুরুর মেজাজ বেশি খারাপ থাকে, পরে ঝাড়তে ঝাড়তে রাগ পড়তে থাকে। আজকে পুরো ঝড় আমার উপর দিয়ে যাবে মনে হচ্ছে!


আমি পড়তে শুরু করলাম-
"প্রস্তাব ছিল, আমরা যখন যূথবদ্ধ শিকারী তখন আমাদের কেশরের ফুলে ওঠায় শিউরে উঠবে বাগানের সকল বিড়াল"
এটুকু বলতেই গুরু চটে গেল আজকে। খিস্তিখেউড়ের ফাঁকে যা বুঝলাম তা হলো আমি ভালো উপমা দিতে পারিনি। যূথবদ্ধ শিকারী মানে যে শিশ্ন আর বিড়াল মানে যে যোনী, তা সহজেই বুঝা যাচ্ছে। এভাবে লিখলে লেখার কাজ বন্ধ করে দিতে হবে। এর চাইতে সচিবালয়ে গিয়ে ঝাড়ু মারাও উত্তম কাজ! (গুরু সুযোগ পেলেই এই খোঁচাটা মারবে। আমি একবার বিসিএস দিয়ে টিঁকেছিলাম, তাই বলে সকাল বিকাল সেটা মনে করিয়ে দেয়ার কী দরকার?)। রাগে দুঃখে আমি ভরসার জন্যে আমার সঙ্গীসাথীদের দিকে তাকাই। তারাও গোপন হাসি ঠোঁটের ভাঁজে লুকিয়ে ফেলে খুব অমায়িক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। "শালার খচ্চরের দল!"


সেদিন রাতেই আমি কবিতাটা পুড়িয়ে ফেলি, সিগারেট ধরানোর জন্যে দেয়াশলাই পাচ্ছিলাম না। পাকঘরের চুলায় কাগজটা মেলে ধরতেই হলদে আগুন চুমু দিল। আমি সেই লেলিহান কামুক চুমুটা আমার সিগারেটের মাথায় ধরিয়ে দিলাম! কাগজ পুড়ছে, আমার মুখ-চুল-ত্বক-নাক আলোকিত হয়ে উঠছে। দূরে ... টের পেলাম, মাইদুল হক ব'সে ছিল বারান্দায়। আমি অবলীলায় তার কাছে গিয়ে গলাটা চিরে ফাক করে দিতে চাই। কিন্তু শেষমেশ পায়ে পড়ে ডুকরে উঠি, "গুরু! আমাকে ক্ষমা করো, আমার ভুল হয়ে গেছে।!"


কাজী মাইদুল হক তখন স্মিত হাসি দিচ্ছিল এবং আমি মুখ তুলে তার মাথার পেছনে আধকাটা চাঁদটারে অশ্লীল হেসে উঠতে শুনেছিলাম।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই গ্যাজেটে একটি ত্রুটি ছিল