শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০০৯

টু-ডু লিস্ট অফ টু-ডে

আমার ঘরে খুব বেশি জিনিশ নাই। একটা খাট, খাটের পাশে টেবিল। টেবিলের পাশ দিয়ে চেস্ট অফ ড্রয়ার, তার পাশে দরজা। অন্যদিকে খাটের পাশে জানালা, জানালার পাশে কম্পিউটার, তার পাশে বইয়ের শোকেস। এই।


আমি মাঝে মাঝেই একঘেঁয়ে হয়ে গেলে ঘরের এই লে-আউটটা বদলে ফেলি। এর সাথে আর কোনো অন্তর্নিহিত অর্থ নেই। আমার হয়তো সবাইকে একটা উল্‌টে পাল্‌টে দিতে ইচ্ছা করে, হয়তো এজন্যেই আমি এভাবে মাঝে মাঝে নিজের ঘর বদলে ফেলি। এবারে আলসেমি লাগছিলো (আমার মতোন অলসেরও আবার আলসেমি লাগে!), তাই আমি কেবল খাট আর কম্পিউটারের মাঝের চেয়ারটা হঠিয়ে দিলাম। তারপরে তার ও মাল্টিপ্লাগসমেৎ পুরো কম্পুবাবাকে টেনে খাটের পাশে নিয়ে এলাম। এখন শয্যা থেকেই অন্তর্জাল! সুতরাং আমার অনেক সুবিধা হলো। অলসতা একটা ভয়ানক আগ্রাসী রোগ।


মশা বেড়ে গেছে আজকাল। আর ক্ষুধার্তের প্রতি আমার করুণাবশত আমিও কিছু বলি না। মশাগুলো রক্ত খেয়ে খেয়ে ভোম হয়ে ওঠে। তারপরে আমি আঙুলে চেপে ধরলেই তার নধর দেহখানা চটকে যায়। আঙুলে আমার রক্তের কিছুটা অংশ লেগে যায়। মাঝে মাঝে আমি নাকের কাছে ধরে গন্ধ নেই। ধাতব ধাতব ঘ্রাণ আসে রক্তের, লৌহকণা আছে নিশ্চয়ই অনেক? আমার গা ঝিম ঝিম করে।


মনমরণের ইতিবৃত্ত পড়ে একজন বললেন আমার লেখায় অনেক ক্লেদ চলে আসছে প্রকাশিত হয়ে। এখন আর সেগুলো উপমা আর রূপকে ঢাকা নেই, বিবিক্ত হয়ে পড়ছে। তার কাছে অবশ্য সেই প্রকাশ দুর্দান্ত লেগেছে। কিন্তু আমি দ্বিধায় পড়ে গেলাম যে এই বদলটুকু ভালো হলো না খারাপ হলো সেটা নিয়ে। নতুনতর হয়েছে মনে করে স্বস্তিলাভের সময় নাই এখন আর, নিজেকে ভাঙতে হবে, টুকরো টুকরো করে ফেলতে হবে। তারপরে ভেঙে দেখতে হবে নতুন নতুন কোনোকিছু তৈরি করা যায় কী না! এমন না হলে আসলেই লেখালেখির কোনো আদত-উদ্দেশ্য হয় না। নিজের তৃপ্তির জায়গাটার বদল না ঘটালে লেখা বৈচিত্র্য পাবে না। আর কূপে আটকে গেলেই বিপদ। সুতরাং আমি প্রকাশিত ক্লেদ ও অনুক্ত উপমা নিয়ে এখন চিন্তিত।


মাথার চারপাশে দুয়েকটা পিনপিনে মশা ঘুরছেন। তারা অনেক জ্ঞানী ও কবির চাইতেও মহৎ। তাদের জন্যে অসীম শ্রদ্ধা!




***
- ১৯.১২.৯

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই গ্যাজেটে একটি ত্রুটি ছিল